ঢাকা | বঙ্গাব্দ

পশ্চিম তীরের সংঘর্ষ, বসতি স্থাপনকারী গ্রেপ্তার

১৯৬৭ সাল থেকে ইসরায়েল পশ্চিম তীর দখল করে আছে এবং পাঁচ লাখের বেশি ইসরায়েলি সেখানে বসতি স্থাপনে করে বসবাস করছে।
  • অনলাইন ডেস্ক | ১২ নভেম্বর, ২০২৫
পশ্চিম তীরের সংঘর্ষ, বসতি স্থাপনকারী গ্রেপ্তার অবৈধ ইসরায়েলি।

ইসরায়েলি পুলিশ ও সেনাবাহিনী মঙ্গলবার জানিয়েছে, দখলকৃত পশ্চিম তীরের তুলকারেম শহরের কাছে সহিংস সংঘর্ষের পর, নিরাপত্তা বাহিনী বেশ কয়েকজন ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীকে গ্রেপ্তার করেছে। এই ঘটনায় ফিলিস্তিনিরা আহত হয়েছেন এবং তাদের সম্পত্তি ধ্বংস হয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।


সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ‘মুখোশধারী ইসরায়েলি বেসামরিক লোকেরা ফিলিস্তিনিদের ওপর আক্রমণ করেছে এবং এলাকার সম্পত্তিতে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী দাঙ্গা ছত্রভঙ্গ করার উপায় ব্যবহার করে, সংঘর্ষ ছত্রভঙ্গ করার জন্য অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজন ইসরাইলি বেসামরিক নাগরিককে আটক করেছে।’


তারা আরো জানায়, এই ঘটনায় আহত চার ফিলিস্তিনিকে চিকিৎসার জন্য সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এক পৃথক বিবৃতিতে ইসরায়েলি পুলিশ জানিয়েছে, আজ ভোরে পশ্চিম তীরের উত্তরে বেইত লিদ ও দেইর শারাফ গ্রামে সংঘটিত এই সহিংস ঘটনার পর চার সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।


বেইত লিদের মেয়র হুসেইন হাম্মাদি এএফপিকে বলেছেন, প্রায় ২০০ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী পাহাড় থেকে তার গ্রামের দিকে নেমে আসে। এরপর তারা দুটি দলে বিভক্ত হয়ে যায়। হাম্মাদি বলেন, ‘একটি দল রাস্তার ধারে ঢালে অবস্থিত বেদুইন সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণ করে, অন্য দলটি একটি পাহাড়ে উঠে যায় যেখানে জুনেদি ডেইরি কারখানা অবস্থিত ।’ 


জুনেদি ডেইরি কারখানা ফিলিস্তিনের প্রধান দুগ্ধ ব্র্যান্ডগুলোর একটি। হাম্মাদি বলেন, বেদুইন সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণকারী দলটি বেদুইনদের যানবাহন, পশুপালন ও ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয় এবং অন্য একটি বেদুইন শিবিরে যাওয়ার আগে ভেড়া চুরি করার চেষ্টা করে। তারা দুগ্ধ কারখানার পাঁচটি ট্রাক পুড়িয়ে দেয় এবং কারখানাটিতে লুটপাট চালায়। এই হামলায় ১০ জন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন।


১৯৬৭ সাল থেকে ইসরায়েল পশ্চিম তীর দখল করে আছে এবং পাঁচ লাখের বেশি ইসরায়েলি ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে বসতি স্থাপনে করে, সেখানে বাস করছে। পশ্চিম তীরের সমস্ত বসতি আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে অবৈধ।


হাম্মাদি বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন না যে, পুলিশ মঙ্গলবার বসতি স্থাপনকারীদের গ্রেপ্তার করেছে। ‘সেনাবাহিনী যদি তাদের (বসতি স্থাপনকারীদের) সুরক্ষা না দিত, তাহলে তারা কখনোই এই সব করার সাহস করত না।’


জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় অফিস জানিয়েছে, ২০০৬ সালে রেকর্ডিং শুরু হওয়ার পর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর মাস ছিল বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার জন্য সবচেয়ে খারাপ মাস। এই মাসে ২৬৪টি হামলায় হতাহত বা সম্পত্তির ক্ষতি হয়। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ প্রায় কোনও অপরাধীকেই জবাবদিহি করেনি। 


২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে পশ্চিম তীর জুড়ে সহিংসতা বেড়ে গেছে। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে পশ্চিম তীরে কমপক্ষে ১ হাজার ২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।


সূত্র: এএফপি


এসজেড