ঢাকা | বঙ্গাব্দ

দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও শেষের নাটকীয় প্রত্যাবর্তনে জিতল বার্সা

দারুণ প্রত্যাবর্তন করে হ্যান্সি ফ্লিকের শিষ্যরা, শেষ পর্যন্ত লেভান্তেকে ৩-২ গোলে হারিয়ে মাঠ ছাড়ে পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়ে।
  • নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৪ আগস্ট, ২০২৫
দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও শেষের নাটকীয় প্রত্যাবর্তনে জিতল বার্সা ফেরান তরেস বার্সেলোনাকে সমতায় ফেরান।

লা লিগার নতুন মৌসুমে নাটকীয় এক ম্যাচ উপহার দিল বার্সেলোনা। পুরো খেলায় আক্রমণ ও বল দখলে এগিয়ে থাকলেও প্রথমার্ধে দুই গোল হজম করে চাপে পড়ে যায় শিরোপাধারীরা। তবে বিরতির পর দারুণ প্রত্যাবর্তন করে হ্যান্সি ফ্লিকের শিষ্যরা, শেষ পর্যন্ত লেভান্তেকে ৩-২ গোলে হারিয়ে মাঠ ছাড়ে পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়ে।


ইভান রোমেরো ও হোসে লুইস মোরালেসের গোলে পিছিয়ে পড়েছিল বার্সেলোনা। তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই তিন মিনিটের ব্যবধানে পেদ্রি ও ফেররান তোরেসের জোড়া গোল এনে দেয় সমতা। আর নির্ধারিত সময় শেষে যোগ করা মিনিটে লেভান্তের ডিফেন্ডার উনাই এলগেসাবালের আত্মঘাতী গোল জয় নিশ্চিত করে শিরোপাধারীদের।


পুরো ম্যাচে প্রায় ৮৩ শতাংশ সময় বল দখলে রাখে বার্সেলোনা। গোলের জন্য নেয় ২৬টি শট, যার মধ্যে ১০টি ছিল টার্গেটে। বিপরীতে লেভান্তে নেয় ৮ শট, এর মধ্যে ৫টি যায় লক্ষ্যে।


আক্রমণাত্মক ফুটবলে শুরু থেকে লেভান্তেকে চেপে ধরে বার্সেলোনা। বেশিরভাগ সময় খেলা হতে থাকে লেভান্তের অর্ধেই। তবে সুযোগ পেলে মাঝেমধ্যেই পাল্টা আক্রমণ শাণানোর চেষ্টা করে স্বাগতিকরা। তেমনই এক পাল্টা আক্রমণে পঞ্চদশ মিনিটে গোলও পেয়ে যায় তারা।


বাঁ দিক থেকে সতীর্থের উঁচু করে বাড়ানো বলে বক্সে প্রথম স্পর্শে জেরেমি খুঁজে নেন নেন ইভান রোমেরোকে। বার্সেলোনার এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে আরেক জনের বাধা এড়িয়ে কাছ থেকে বল জালে পাঠান স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড।


বার্সেলোনার বেশ কিছু আক্রমণ লেভান্তের রক্ষণে গিয়ে খেই হারিয়ে ফেলার পর ২৭তম মিনিটে ভালো একটি সুযোগ পান তরেস। তবে বক্সে আলেহান্দ্রো বাল্দের পাসে স্প্যানিশ ফরোয়ার্ডের শট অনায়াসে ঠেকান গোলরক্ষক। এই ম্যাচেও যথারীতি ‘হাই লাইন’ রক্ষণের কৌশল নেয় বার্সেলোনা। তাতে মাঝেমধ্যেই বিপদের শঙ্কায় পড়তে হয় তাদের।


৩৭তম মিনিটে সমতা ফেরানোর সুযোগ হারান তরেস। পেদ্রির পাস বক্সে ফাঁকায় পান তিনি, কিন্তু তার শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। তিন মিনিট পর বক্সের বাইরে থেকে লামিনে ইয়ামালের শট ঠেকাতে সমস্যা হয়নি গোলরক্ষকের।

 

৪২তম মিনিটে অল্পের জন্য আরেকটি গোল হজম করেনি বার্সেলোনা। ফ্রি-কিকে এলগেসাবালের ডাইভিং হেড পোস্টের সামান্য বাইরে দিয়ে যায়। প্রথমার্ধের নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে বাল্দের ক্রসে বক্সে রাফিনিয়ার হেড পোস্ট ঘেঁষে বেরিয়ে যায়।


প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে সফল স্পট কিকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ৩৮ বছর বয়সী মোরালেস। তার শট বক্সে বাল্দের হাতে লাগার পর ভিএআর মনিটরে রিপ্লে দেখে পেনাল্টি দিয়েছিলেন রেফারি। যদিও বার্সেলোনা ডিফেন্ডারের হাত ছিল শরীরের কাছেই।


দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে দুই গোল করে ম্যাচে ফেরে বার্সেলোনা। ৪৯তম মিনিটে ইয়ামালের পাস বক্সের বাইরে পেয়ে ২৫ গজ দূর থেকে বুলেট গতির শটে বল জালে পাঠান পেদ্রি। ৫২তম মিনিটে রাফিনিয়ার কর্নারে কাছ থেকে দারুণ ভলিতে পরের গোলটি করেন তরেস।


৫৭তম মিনিটে আরেকটি সুযোগ পায় বার্সেলোনা। এরিক গার্সিয়ার হেড ঠেকান গোলরক্ষক। ৭০তম মিনিটে তরেসের হেডও প্রতিহত করেন তিনি। দুই মিনিট পর বক্সের বাইরে থেকে দানি ওলমোর নিচু শটও আটকে দেন গোলরক্ষক।


শেষ মুহূর্তে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন রবার্ট লেভানডফস্কি ও জুল কুন্দে। এরপর একের পর এক আক্রমণ চালালেও গোল পাচ্ছিল না বার্সেলোনা। অবশেষে যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে ইয়ামালের বাড়ানো ক্রস ক্লিয়ার করতে গিয়ে ভুল করে নিজেদের জালেই বল পাঠান এলগেসাবাল। ফলে জয় নিশ্চিত হয় বার্সার।


লিগ শিরোপা ধরে রাখার মিশনে প্রথম দুই ম্যাচেই জিতে ৬ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে বার্সেলোনা। বিপরীতে প্রথম দুই ম্যাচেই হারল লেভান্তে।


thebgbd.com/NIT