গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধাপরাধ তদন্তের প্রতিশোধ হিসেবেই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) বেশ কয়েকজন বিচারক ও প্রসিকিউটরের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এবার পুরো আইসিসি ওপরেই নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। এতে আদালতের দৈনন্দিন কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই বিষয়ে অবগত ছয়টি সূত্র বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে, ‘এনটিটি স্যাংশন’ বা পুরো প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত খুব শিগগিরই ঘোষণা করা হতে পারে।
একটি সূত্র জানায়, সম্ভাব্য সামগ্রিক নিষেধাজ্ঞার প্রভাব নিয়ে আলোচনা করার জন্য নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগভিত্তিক আদালতের কর্মকর্তারা ইতিমধ্যেই জরুরি অভ্যন্তরীণ বৈঠক করেছেন। অন্য দুটি সূত্র জানিয়েছে, আদালতের সদস্য রাষ্ট্রের কূটনীতিকদের সঙ্গেও বৈঠক হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, পুরো আদালতকে লক্ষ্য করে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে, তবে সুনির্দিষ্ট সময় নিয়ে তিনি কিছু জানাননি।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র অভিযোগ করেছেন, আইসিসি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নাগরিকদের ওপর ‘অযৌক্তিক এখতিয়ার’ দেখাচ্ছে। তিনি বলেন, যদি আদালত কাঠামোগত পরিবর্তন না করে, তাহলে ওয়াশিংটন নিজেদের সেনাসদস্য ও স্বার্থ রক্ষায় অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেবে। তবে ঠিক কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে তা বলেননি তিনি।
এদিকে যদি পুরো প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়, তাহলে কর্মীদের বেতন দেওয়া, ব্যাংকিং সেবা ব্যবহার করা এবং সফটওয়্যার চালানো পর্যন্ত বিঘ্নিত হতে পারে। সম্ভাব্য ক্ষতি এড়াতে আইসিসি ইতোমধ্যে তাদের কর্মীদের ২০২৫ সালের বাকি মাসের বেতন অগ্রিম পরিশোধ করেছে। যদিও নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রে সতর্কতা হিসাবে আদালতের পক্ষ থেকে অগ্রিম বেতন প্রদানের ঘটনা এটিই প্রথম নয়।
তিনটি সূত্র জানিয়েছে, আদালত ব্যাংকিং পরিষেবা এবং সফটওয়্যারের জন্য বিকল্প সরবরাহকারীদেরও খুঁজছে।
সূত্র: রয়টার্স
এসজেড