ঢাকা | বঙ্গাব্দ

জিম্মিদের পরিবারের সঙ্গে উইটকফ

ইসরায়েলি সেনাপ্রধান বলেন, গাজায় ইচ্ছাকৃতভাবে দুর্ভিক্ষ সৃষ্টি করা হচ্ছে—এই অভিযোগ একটি পরিকল্পিত এবং প্রতারণামূলক প্রচার।
  • অনলাইন ডেস্ক | ০৩ আগস্ট, ২০২৫
জিম্মিদের পরিবারের সঙ্গে উইটকফ তেল আবিবে স্টিভ উইটকফ।

গাজায় প্রায় ২২ মাস ধরে আটকে থাকা ইসরায়েলি জিম্মিদের পরিবারের সঙ্গে শনিবার সাক্ষাৎ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের দূত স্টিভ উইটকফ। ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে শুরু হওয়া যুদ্ধ এখনো বন্ধ না হওয়ায় জিম্মিদের ভাগ্য নিয়ে উৎকণ্ঠা দিন দিন বেড়ে চলেছে।


তেলআবিব থেকে এএফপি জানায়, শনিবার উইটকফ তেলআবিবে জিম্মিদের পরিবার ও সমর্থকদের প্রতিবাদ সভায় পৌঁছালে তাকে করতালি দিয়ে তাকে স্বাগত জানানো হয়। তারা জিম্মিদের মুক্ত করতে উইটকফের সহযোগিতা চান। পরে তিনি পরিবারগুলোর সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মিলিত হন। অনলাইনে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, উইটকফ জিম্মিদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তারা ‘জিম্মিদের বাড়িতে ফিরিয়ে আনুন ‘এবং ‘আপনার সাহায্য দরকার’ এ ধনের স্লোগান দেন।


২১ বছর বয়সী জিম্মি নিমরোদ কোহেনের ভাই ইয়োতাম কোহেন বলেন, এই যুদ্ধের অবসান হওয়া দরকার। ইসরায়েলি সরকার নিজে থেকে তা বন্ধ করবে না। আমাদের নিজেদের, আমাদের সেনা, জিম্মিদের এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে এই সরকারকে থামানো দরকার। বৈঠক শেষে জিম্মি ও নিখোঁজ পরিবারের সমন্বয় ফোরাম এক বিবৃতিতে জানায়, উইটকফ ব্যক্তিগতভাবে তাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তিনি এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাকি জিম্মিদের মুক্ত করতে কাজ করবেন।


এর আগেও জিম্মি মুক্তি ও ত্রাণ সহায়তা সহজতর করতে যুক্তরাষ্ট্র, মিশর ও কাতার হামাস ও ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতা করে। তবে গত মাসে আলোচনা ভেস্তে যায় এবং প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সরকার এখন অভ্যন্তরীণ চাপের মুখে পড়েছে।


ইসরায়েলের সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল এয়াল জমির বলেছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই জানা যাবে, আমরা জিম্মি মুক্তির বিষয়ে কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারি কিনা। তা না হলে যুদ্ধ অব্যাহত থাকবে। এই সপ্তাহে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো দুইটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। সেখানে জিম্মিদেরকে ভীষণ দুর্বল ও কৃশকায় অবস্থায় দেখা গেছে।


তবে লেফটেন্যান্ট জেনারেল এয়াল জমির এসব ভিডিওকে মিথ্যা দাবি করে বলেন, গাজায় ইচ্ছাকৃতভাবে দুর্ভিক্ষ সৃষ্টি করা হচ্ছে—এই অভিযোগ একটি পরিকল্পিত এবং প্রতারণামূলক প্রচার। এর উদ্দেশ্য ইসরাইলি সেনাবাহিনীকে যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত করা। তিনি বলেন, গাজা উপত্যকার বাসিন্দাদের মৃত্যুর জন্য দায়ী হামাস।


যুক্তরাষ্ট্রের দূত স্টিভ উইটকফ শুক্রবার পাঁচ ঘণ্টা ধরে জিএইচএফ-এর আরেকটি কেন্দ্র পরিদর্শন করেন । তিনি  জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বেসামরিকদের জন্য খাদ্য সরবরাহ উন্নত করতে পরিকল্পনা করছেন। ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের সংস্থা-ইউএআরডব্লিওএ প্রতিনিধি আদনান আবু হাসনা বলেন, গাজায় পাঠানোর জন্য আমাদের প্রায় ৬ হাজার ট্রাক খাদ্য প্রস্তুত, কিন্তু সীমান্তগুলো রাজনৈতিক কারণে বন্ধ। গাজায় প্রবেশের পাঁচটি স্থলপথ আছে, যার মধ্য দিয়ে প্রতিদিন ১ হাজার  ট্রাক প্রবেশ করতে পারে।


জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি অঞ্চলের মানবাধিকার দপ্তর শুক্রবার জানিয়েছে, ২৭ মে থেকে এখন পর্যন্ত গাজায় মানবিক সহায়তা নেওয়ার চেষ্টাকালে অন্তত ১ হাজার ৩৭৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই ইসরাইলি সেনাবাহিনীর হাতে প্রাণ হারিয়েছেন। তবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলছে, তারা কখনোই বেসামরিক নাগরিকদের ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করে না। হামাস জাতিসংঘ ও অন্যান্য সংস্থার ত্রাণের ট্রাক লুটপাট করে।


সূত্র: এএফপি


এসজেড