সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির মুক্তির দাবিতে সোমবার শত শত নেপালি বিক্ষোভ করেছেন। ২০২৫ সালের প্রাণঘাতী বিক্ষোভ দমনের ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ৭৪ বছর বয়সী ওলি এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককে শনিবার ভোরে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়। এর একদিন আগে নতুন প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ শপথ নেন, যা সেপ্টেম্বরের গণঅভ্যুত্থানের পর অনুষ্ঠিত প্রথম নির্বাচনের ফল। খবর এএফপি’র।
সোমবার ভারী পুলিশ মোতায়েনের মাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের আটকে দেওয়া হয়, যখন তারা আগুনে পুড়ে যাওয়া পুরনো সংসদ ভবনের দিকে অগ্রসর হচ্ছিলেন। গত সেপ্টেম্বরের সহিংসতায় ওই ভবনে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছিল এবং এতে অন্তত ৭৬ জন নিহত হন। ৩৭ বছর বয়সী বিক্ষোভকারী বালকুমারী বিক বলেন, ‘এটি প্রতিহিংসার রাজনীতি। এটি একটি রাজনৈতিক প্রতিশোধ।’
একটি তদন্ত কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে ওলি ও লেখককে গ্রেপ্তার করা হয়। কমিশন জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর গুলি চালানো ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। প্রায় ৩০০ বিক্ষোভকারী ‘কেপি ওলিকে মুক্তি দাও’ এবং ‘কমিশন রিপোর্ট বাতিল করো’ এই স্লোগান দেন।
স্বাস্থ্য সমস্যায় ভোগা ওলি রোববার হাসপাতাল থেকে ভিডিও লিংকের মাধ্যমে আদালতে হাজির হন। আদালত তার আটকাদেশ পাঁচ দিন বাড়ানোর নির্দেশ দেয়। এই দুই নেতাকে বিক্ষোভ দমনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হলেও এখনো তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়নি এবং তারা দুজনই সহিংসতার দায় অস্বীকার করেছেন।
ওলির আইনজীবীরা তার মুক্তির দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছেন বলে জানিয়েছেন আদালতের মুখপাত্র অর্জুন প্রসাদ কোইরালা। তিনি বলেন, প্রক্রিয়াটি ‘চলমান’ রয়েছে। তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সহিংসতা সম্পর্কে অজ্ঞতার দাবি করে ওলি ও লেখাক যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা দায় এড়ানোর চেষ্টা এবং ‘অপরাধমূলক অবহেলা’র শামিল। প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে, অবহেলার কারণে মৃত্যুর ঘটনায় প্রযোজ্য আইনের আওতায় তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করা হোক।
সূত্র: এএফপি
এসজেড