ঢাকা | বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রে রিপাবলিকান পার্টির সম্মেলন

চতুর্থ সপ্তাহে গড়ানো মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাব সম্মেলনের মূল মঞ্চ থেকে শুরু করে সব আলোচনায় ছায়া ফেলবে।
  • অনলাইন ডেস্ক | ২৪ মার্চ, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রে রিপাবলিকান পার্টির সম্মেলন সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

ইরান যুদ্ধ ও আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভরাডুবির আশঙ্কার মধ্যেই টেক্সাসে চলতি সপ্তাহে শুরু হচ্ছে মার্কিন রিপাবলিকান পার্টির সবচেয়ে বড় সম্মেলন। আয়োজকদের দাবি, এটি হতে যাচ্ছে তাদের এ যাবৎকালের সবচেয়ে প্রভাবশালী সমাবেশ।


ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, ডালাসের কাছে বুধবার থেকে চার দিনব্যাপী এই ‘কনজারভেটিভ পলিটিক্যাল অ্যাকশন কনফারেন্স’ (সিপ্যাক) শুরু হতে যাচ্ছে। বিদেশে যুদ্ধ ও দেশে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেই রিপাবলিকান পার্টির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও তাদের বৈশ্বিক মিত্ররা এই সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন। বরাবরের মতো এবারও সম্মেলনের মূল আকর্ষণ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার উপস্থিতি দলের নেতা-কর্মীদের জন্য উদ্দীপনা ও দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করে। আগামী শনিবার তার ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। 


তবে এবারের সম্মেলনে বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি। বিশেষ করে, ইরানের নির্বাসিত ক্রাউন প্রিন্স রেজা পাহলভিকে নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর পর, নিজেকে সম্ভাব্য অন্তর্বর্তীকালীন নেতা হিসেবে তুলে ধরা পাহলভি এই মঞ্চকে ব্যবহার করতে চান। যুদ্ধের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি সেখানে দেশটির শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের পক্ষে জনমত গঠনের চেষ্টা করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।


সিপ্যাক আয়োজকরা এই সম্মেলনকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন। তাদের মতে, জোটকে শক্তিশালী করা, নতুন নেতৃত্ব তুলে ধরা ও ‘স্বাধীনতা নিজের দেশ থেকেই শুরু হয় এবং একে অবশ্যই রক্ষা করতে হবে’— এমন বার্তা প্রচারের লক্ষ্যে বছরব্যাপী প্রচেষ্টারই চূড়ান্ত প্রতিফলন এই আয়োজন।


তবে রিপাবলিকানদের জন্য সময়টা বেশ চ্যালেঞ্জের। অর্থনীতিতে চাপ ও ইরানে দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের আশঙ্কায় আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে দলটির ফলাফল খারাপ, এমনকি ভরাডুবিও হতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বর্তমানে চতুর্থ সপ্তাহে গড়ানো এই যুদ্ধের প্রভাব সম্মেলনের মূল মঞ্চ থেকে শুরু করে সব আলোচনায় ছায়া ফেলবে। পররাষ্ট্রনীতি, জ্বালানি নিরাপত্তা ও বিশ্ব রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে সেখানে বিতর্ক হতে পারে।


রিপাবলিকান কৌশলবিদরা আশঙ্কা করছেন, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে নভেম্বরের নির্বাচনে তারা ‘হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস’-এর নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারেন ডেমোক্র্যাটদের কাছে। এ ছাড়া সিনেটে বর্তমানে তাদের যে ৫৩-৪৭ আসনের সামান্য ব্যবধানের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, তাও ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।


অন্যদিকে, দণ্ডপ্রাপ্ত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইন সংশ্লিষ্ট নথিপত্র প্রকাশ হওয়ার বিতর্কটিও রক্ষণশীল মহলে অস্বস্তি তৈরি করেছে। ট্রাম্পের সাবেক কৌশলবিদ স্টিভ ব্যানন এই সম্মেলনে বক্তা হিসেবে থাকায় সমালোচনা হচ্ছে। এপস্টাইনের সঙ্গে তার অতীত যোগাযোগের তথ্য থাকলেও, ব্যাননের বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই।


এতসব বিতর্কের মাঝেও রক্ষণশীল রাজনীতির মূল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবেই দেখা হচ্ছে সিপিএসি’কে। গত বছরের সম্মেলনে কট্টর আদর্শ এবং ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ দর্শনের ওপর জোর দেওয়া হয়। সাধারণত হাঙ্গেরির ভিক্টর অরবান, আর্জেন্টিনার হাভিয়ের মিলেই বা ব্রাজিলের জাইর বলসোনারোর মতো কট্টর ডানপন্থী বিশ্বনেতারা এই মঞ্চে উপস্থিত থাকেন। ট্রাম্প ও পাহলভি ছাড়াও সম্মেলনে টেক্সাসের সিনেটর টেড ক্রুজ ইরান ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে কট্টর বার্তা দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। 


এ ছাড়া নর্থ ক্যারোলিনা থেকে সিনেট প্রার্থী ও ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র মাইকেল হোয়াটলি নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ভোটার উপস্থিতি নিয়ে কথা বলবেন। সম্মেলনের অন্যতম বিতর্কিত মুখ হিসেবে থাকছেন ২৩ বছর বয়সী উগ্র ডানপন্থী ইউটিউবার নিক শার্লি। মিনেসোটার সোমালি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ তুলে তিনি আলোচনায় আসেন, যদিও সরকারিভাবে তা নাকচ করা হয়েছে।


সূত্র: এএফপি


এসজেড