ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়ার তেল সরবরাহ বহনকারী দ্রুঝবা তেল পাইপলাইন পুনরায় চালু করতে ইউরোপীয় মিত্রদের চাপ ‘ব্ল্যাকমেইল’-এর মতো। কিয়েভ থেকে এএফপি জানায়, রোববার প্রকাশিত এক বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সোভিয়েত আমলের এই পাইপলাইনটি ইউক্রেন অতিক্রম করেছে। ইউক্রেন বলছে, জানুয়ারিতে রাশিয়ার এক হামলায় এটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাইপলাইনটি মেরামত করতে ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে কিয়েভ। এতে ক্ষুব্ধ হয়েছে হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়া, কারণ তাদের জ্বালানি চাহিদার বড় একটি অংশ এই পাইপলাইনের ওপর নির্ভরশীল।
হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়া হুমকি দিয়েছে, পাইপলাইন দ্রুত চালু না করা হলে তারা ইউক্রেনের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তা অবরুদ্ধ করবে। একই সময় ইউরোপীয় কমিশন ক্ষয়ক্ষতি পরিদর্শনের জন্য একটি মিশন পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে, যা কিয়েভের ওপর চাপ আরও বাড়িয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহের বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। তেলের দাম কমাতে বাজারে সরবরাহ বাড়ানোর উপায় খুঁজছে বিভিন্ন দেশ।পাইপলাইনটি পুনরায় চালুর বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে জেলেনস্কি সাংবাদিকদের বলেন, ‘যদি আমরা রাশিয়ার তেল সরবরাহ পুনরুদ্ধারের সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকি, তবে তারা জানুক—আমি এর বিরোধিতা করছি। কিন্তু যদি আমাকে এমন শর্ত দেওয়া হয় যে ইউক্রেন আর অস্ত্র পাবে না, তাহলে দুঃখিত—এই বিষয়ে আমার কিছু করার নেই। ইউরোপে আমাদের বন্ধুদের বলেছি, এটাকেই ব্ল্যাকমেইল বলা হয়।’
জেলেনস্কি তার বক্তব্যে হাঙ্গেরির সমালোচনাও করেন এবং দেশটির সরকারের বিরুদ্ধে ‘ইউক্রেনবিরোধী মনোভাব’ ছড়ানোর অভিযোগ তোলেন। পাইপলাইন ইস্যুতে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কিয়েভ ও বুদাপেস্টের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। এ নিয়ে জেলেনস্কি ও হাঙ্গেরির জাতীয়তাবাদী প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান একে অপরের বিরুদ্ধে তীব্র মন্তব্য করেছেন।
জেলেনস্কি বলেন, ‘আমরা হাঙ্গেরির যেকোনো নেতৃত্বের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। আমরা বন্ধুত্বপূর্ণভাবে কাজ করতে রাজি—তবে শর্ত হলো তিনি যেন ভ্লাদিমির পুতিন-এর মিত্র না হন, অর্থাৎ আগ্রাসী রাষ্ট্রের পক্ষে না থাকেন।’
যুক্তরাষ্ট্র যেন ইউক্রেন থেকে মুখ না ফেরায়
যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় মিত্রদের কাছে ড্রোন ভূপাতিত করার প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে বিশেষজ্ঞ দল পাঠিয়েছে ইউক্রেন। তবে কিয়েভ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ সরে গেলে ইউক্রেনের জন্য সহায়তা বিলম্বিত হতে পারে। জেলেনস্কি বলেন, ‘আমরা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের সহায়তা করার প্রস্তুতি দেখাচ্ছি। আমরা দৃঢ়ভাবে আশা করি, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেন যুদ্ধের প্রশ্ন থেকে সরে যাবে না।’ তিনি বলেন, ইউক্রেন এখন পর্যন্ত কেবল উপসাগরীয় দেশগুলোকে প্রযুক্তিগত সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে এবং তারা ‘ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িত নয়’।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে আগ্রাসন শুরুর পরও রাশিয়া তার প্রতিবেশী দেশটির ওপর হামলা অব্যাহত রেখেছে, যদিও বিশ্বের মনোযোগ এখন ইরান যুদ্ধের দিকে সরে গেছে। রোববার ভোরে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের খারকিভ অঞ্চলে একটি অ্যাম্বুলেন্সে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় দুই চিকিৎসাকর্মী নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে।
জেলেনস্কি বলেন, শুধু গত এক সপ্তাহেই রাশিয়ার সেনাবাহিনী ইউক্রেনের ওপর হাজার হাজার ড্রোন ও আকাশ থেকে নিক্ষিপ্ত বোমা হামলা চালিয়েছে এবং পাশাপাশি কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। তিনি জানান, ফ্রান্স চলতি বছরের শেষের দিকে ইউক্রেনকে একটি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ করবে, যা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম হতে পারে।
সূত্র: এএফপি
এসজেড