ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি শুক্রবার প্যারিসে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। চার বছর ধরে চলা রাশিয়ার আগ্রাসন শেষ করতে মস্কোর ওপর চাপ বাড়ানোর লক্ষ্যে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
এ সফর এমন সময় হচ্ছে যখন কিয়েভের মিত্ররা আশঙ্কা করছে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে রাশিয়ার তেলের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করার ফলে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সুবিধা পেতে পারেন। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে জ্বালানি দামের ঊর্ধ্বগতিও ইতোমধ্যে তাকে কিছুটা শক্ত অবস্থানে এনে দিয়েছে।
২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সেনা অভিযান শুরু হওয়ার পর ফ্রান্সে এটি জেলেনস্কির দ্বাদশ সফর। এ সফরে দুই নেতা একটি সংবাদ সম্মেলন করারও কথা রয়েছে। ফরাসি প্রেসিডেন্সি জানিয়েছে, বৈঠকে ইউক্রেন আগ্রাসনের কারণে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল পরিবহনে ব্যবহৃত রাশিয়ার তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’ ট্যাংকারগুলোকে লক্ষ্য করে মস্কোর ওপর চাপ বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।
তবে বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমানোর লক্ষ্যে সমুদ্রে থাকা রাশিয়ার তেল বিক্রির অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলার পর যে আঞ্চলিক যুদ্ধ শুরু হয়েছে, তার প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, এই স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হলো ‘বিদ্যমান সরবরাহের বৈশ্বিক পরিসর বাড়ানো’।
জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্ৎস শুক্রবার বলেন, ‘যে কারণেই হোক এখন নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা ভুল। আমরা মনে করি এটি ভুল সিদ্ধান্ত। আমরা চাই না ইরানের যুদ্ধকে কাজে লাগিয়ে রাশিয়া ইউক্রেনকে দুর্বল করার সুযোগ পাক।’ তিনি জানান, চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এক ফোনালাপে জি৭ জোটের ছয় সদস্য দেশ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এ ধরনের পদক্ষেপ সঠিক বার্তা দেবে না।
জি৭ নেতাদের ভিডিও বৈঠকের পর ম্যাক্রোঁও বলেন, মস্কোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার কোনো যুক্তি নেই। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় কিয়েভ ও মস্কোর মধ্যে চলা আলোচনাও বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এদিকে ক্রেমলিন চলতি সপ্তাহের শুরুতে বলেছে, প্যারিসে এই বৈঠক শান্তি প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করবে এবং ‘রাশিয়ার ওপর চাপ প্রয়োগের ধারণাটিই হাস্যকর’।
সূত্র: এএফপি
এসজেড