ঢাকা | বঙ্গাব্দ

চুক্তি না হলে পরিণতির হুঁশিয়ারি

আরাঘচি এক্সে লিখেছেন, তিনিও ‘ন্যায়সঙ্গত ও ভারসাম্যপূর্ণ চুক্তি’ অর্জনের বাস্তব ধারণা নিয়ে জেনেভায় এসেছেন।
  • অনলাইন ডেস্ক | ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
চুক্তি না হলে পরিণতির হুঁশিয়ারি ডোনাল্ড ট্রাম্প।

জেনেভায় মঙ্গলবার নতুন দফা আলোচনার প্রস্তুতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে না এলে, দেশটিকে সম্ভাব্য পরিণতির মুখে পড়তে হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। জেনেভা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।


ওমানের মধ্যস্থতায় সম্প্রতি পুনরায় শুরু হওয়া এই আলোচনা যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ ঠেকাতেই হচ্ছে। তেহরান বলছে, তাদের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের অবস্থান এখন আরও বাস্তব সম্মত হয়েছে— এ নিয়ে তারা সতর্ক ও আশাবাদী। গত মাসে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের ঘটনায় এবং পরে পরমাণু কর্মসূচি ইস্যুতে ট্রাম্প একাধিকবার ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন।


সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনার বরাতে সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এস্মাইল বাকায়ি বলেন, ‘মাসকাটে এখন পর্যন্ত যে আলোচনা হয়েছে, সেখান থেকে অন্তত আমাদের যা জানানো হয়েছে তাতে বোঝা যাচ্ছে যে ইরানের পরমাণু ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান আরও বাস্তবসম্মত দিকে এগিয়েছে।’


তেহরানের মতে, সুইজারল্যান্ডে মঙ্গলবারের আলোচনা ওমানের মধ্যস্থতায়ই হবে। সোমবার জেনেভায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল বুসাইদির সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে পরমাণু ইস্যু ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে ইরানের অবস্থান নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা করা হয়।


মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, আরকচি ইরানি জনগণের বৈধ স্বার্থ ও অধিকার নিশ্চিত করা এবং আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখতে ফলাফলমুখী কূটনীতি ব্যবহারে তেহরানের গুরুত্ব দেওয়ার ওপরও জোর দিয়েছেন। ইরান জোর দিয়ে বলেছে, আলোচনা কেবল পরমাণু ইস্যুতেই সীমাবদ্ধ থাকতে হবে। যদিও এর আগে ওয়াশিংটন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থনের বিষয়ও আলোচনায় আনার চেষ্টা করেছে।


—যুদ্ধের মহড়া-


ইরানের সামরিক বাহিনীর আদর্শিক শাখা ইসলামিক রিভোলিউশনারি গার্ড কোর সোমবার হরমুজ প্রণালীতে ধারাবাহিক যুদ্ধ মহড়া শুরু করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানায়, ‘সম্ভাব্য নিরাপত্তা ও সামরিক হুমকি মোকাবিলার প্রস্তুতি হিসেবে এ মহড়া চলছে। কৌশলগত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ এই প্রণালী। 


আলোচনা পুনরায় শুরুর আগে উভয় পক্ষ চাপ বাড়ানোর প্রেক্ষাপটে ইরানি রাজনীতিকরা একাধিকবার এটি অবরুদ্ধ করার হুমকি দিয়েছেন।


যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা আশা করছি, একটি চুক্তি হবে। প্রেসিডেন্ট সব সময় আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানকেই অগ্রাধিকার দেন।’ অন্যদিকে, আরাঘচি এক্সে লিখেছেন, তিনিও ‘ন্যায়সঙ্গত ও ভারসাম্যপূর্ণ চুক্তি’ অর্জনের বাস্তব ধারণা নিয়ে জেনেভায় এসেছেন। তবে তিনি এও বলেন, ‘হুমকির মুখে কোনো আত্মসমর্পণ নয়।’


পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, জেনেভায় তিনি আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার প্রধান রাফায়েল গ্রোসির সঙ্গে গভীর কৌশলগত আলোচনা করবেন। পশ্চিমা দেশগুলোর আশঙ্কা, ইরানের এই কর্মসূচি পরমাণু বোমা তৈরির উদ্দেশ্যে। তেহরান এ অভিযোগ অস্বীকার করে।


সূত্র: এএফপি


এসজেড