বেইজিং বার্লিনের সঙ্গে দেশটির বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে এক ‘নতুন উচ্চতায়’ উন্নীত করতে চায়। চীনের শীর্ষ কূটনীতিক ওয়াং ই জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্ৎসকে এ কথা জানিয়েছেন। শনিবার মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনের ফাঁকে তাদের মধ্যে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মিউনিখ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন যখন চীন ও যুক্তরাষ্ট্র— উভয়ের ওপরই নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করছে, তখন ওয়াং ই বেইজিংকে আরও নির্ভরযোগ্য ও স্থিতিশীল অংশীদার হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। তাই ওয়াং বেইজিংকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের আরও নির্ভরযোগ্য ও স্থিতিশীল অংশীদার হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছেন।
ওয়াং ইকে উদ্ধৃত করে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয় জার্মানির সঙ্গে ‘সর্বাঙ্গীণ কৌশলগত অংশীদারত্ব’ নতুন স্তরে নিতে চায় চীন। তিনি আরো বলেন, বার্লিনের সমর্থনে ‘উচ্চ পর্যায়ের মত বিনিময়ের পরবর্তী ধাপ’ প্রস্তুত করতেও আগ্রহী বেইজিং। দুই দেশের গভীর অর্থনৈতিক সম্পর্ক সাম্প্রতিক বছরগুলোয় টানাপোড়েনে পড়েছে।
অন্যায্য বাণিজ্যচর্চার অভিযোগ থেকে শুরু করে সুরক্ষাবাদ— বিভিন্ন ইস্যুতে দেশ দুটি’র মধ্যে দূরত্ব বেড়েছে। খবরে বলা হয়েছে, মের্ৎস এ মাসেই তার প্রথম চীন সফরে যেতে পারেন। পরিবর্তিত বাণিজ্যিক সম্পর্ক কীভাবে সামাল দেওয়া হবেই এই সফরের প্রধান ইস্যু। শনিবার ওয়াং ই জার্মানিকে তার ‘কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন ও আত্মনির্ভরতা’ বজায় রাখতে বড় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, চীন-ইউরোপ সহযোগিতায় জার্মানি হতে পারে চালিকাশক্তি।
ওয়াং ই বলেন, কৌশলগত সম্পর্কে স্থিতিশীলতা আনার ক্ষেত্রে জার্মানি ‘স্থিতিশীল নোঙর’ হয়ে উঠুক—এ প্রত্যাশা চীনের। জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়াদেফুল গত ডিসেম্বরে বেইজিং সফর করেন। সেখানে তিনি ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়ার ওপর প্রভাব খাটাতে ওয়াং ইসহ চীনা কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান। এর আগে ওয়াদেফুলের আরেকটি চীন সফর শেষ মুহূর্তে বাতিল হয়। জার্মানি জানায়, গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের ব্যবস্থা করা যায়নি।
সূত্র: এএফপি
এসজেড