অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে অচল হয়ে পড়া চট্টগ্রাম বন্দরে এসে আন্দোলনরত শ্রমিক-কর্মচারীদের তীব্র বিক্ষোভের মুখে পড়েছেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাখাওয়াত হোসেন। কয়েক’শ শ্রমিক-কর্মচারী বন্দর ভবনে প্রবেশের পথে উপদেষ্টার গাড়ি আটকে স্লোগান দেন। পরে বন্দর ভবনের ভেতরে হেঁটে ঢোকার সময়ও আশপাশে অবস্থান নিয়ে তারা বিক্ষোভ চালিয়ে যান।
জানা গেছে, নৌপরিবহন উপদেষ্টা বর্তমানে বন্দর ভবনে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ও সৃষ্ট অচলাবস্থা নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেছেন।
এ দিকে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের ডাকা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির কারণে বৃহস্পতিবারও চট্টগ্রাম বন্দরের সব ধরনের অপারেশনাল কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। বহির্নোঙ্গর থেকে বন্দরের জেটিতে জাহাজ আসা-যাওয়া বন্ধ রয়েছে। পণ্য খালাসের জন্য আসা জাহাজগুলো জেটিতে ভিড়তে না পেরে নোঙরে অপেক্ষমাণ রয়েছে।
নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধ, আন্দোলন দমাতে হয়রানি ও দমন-পীড়ন বন্ধের দাবিতে বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে বন্দরে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু হয়।
এর ফলে বন্দরের জিসিবি, সিসিটি ও এনসিটিসহ তিনটি টার্মিনাল এবং সব জেটিতে অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। জাহাজ থেকে কনটেইনার ওঠানো-নামানোর কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। কনটেইনার টার্মিনালগুলোতে যন্ত্রপাতির অপারেটররাও কাজে যোগ দেননি। বন্দরে পণ্য পরিবহনকারী যানবাহন প্রবেশ বন্ধ রয়েছে। ইয়ার্ড থেকে কনটেইনার ও পণ্য খালাস বন্ধ আছে। পাশাপাশি ১৯টি অফডক থেকে বন্দরে কনটেইনার পরিবহনও বন্ধ রয়েছে।
এর আগে গত শনিবার (৩১ জানুয়ারি) ও রোববার দুই দিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরে কর্মবিরতি পালন করে বিএনপিপন্থী দুই সংগঠন—চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল এবং চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী সাবেক সিবিএ।
তৃতীয় দিন সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’-এর ডাকে একই সময় কর্মবিরতি পালিত হয়। তিন দিনই অধিকাংশ শ্রমিক-কর্মচারী কাজে যোগ না দেওয়ায় বন্দরের প্রায় সব অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ হয়ে অচলাবস্থা তৈরি হয়।
এ পরিস্থিতিতে সোমবার নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের এক অফিস আদেশে ১৫ জনকে বদলির সুপারিশ করা হয়। এর মধ্যে আন্দোলনের সামনের সারিতে থাকা বিএনপিপন্থী দুই শ্রমিক নেতাও রয়েছেন। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব মো. বেলায়েত হোসেনের সই করা আদেশে দাফতরিক প্রয়োজনে বদলিপূর্বক সংযুক্তি দেওয়ার কথা জানানো হয়। এর মধ্যে আটজনকে পায়রা বন্দরে এবং সাতজনকে মোংলা বন্দরে বদলি করা হয়।
বদলি ও হয়রানির প্রতিবাদে এবং এনসিটি ইজারা প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে মঙ্গলবার ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতির ডাক দেওয়া হয়। ওই কর্মসূচি শেষ হওয়ার আগেই মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রাম বন্দর ভবনের সামনে সংবাদ সম্মেলন করে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ লাগাতার কর্মবিরতির কর্মসূচি ঘোষণা করে।
thebgbd.com/NA