ঢাকা | বঙ্গাব্দ

লেবাননে আন্তর্জাতিক বাহিনী প্রয়োজন হবে

১৯৭৮ সালের লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইউনাইটেড নেশনস ইনটেরিম ফোর্স ইন লেবানন (ইউনিফিল) গঠিত হয়।
  • অনলাইন ডেস্ক | ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬
লেবাননে আন্তর্জাতিক বাহিনী প্রয়োজন হবে নওয়াফ সালাম।

২০২৭ সালে জাতিসংঘের ইউনিফিল মিশন প্রত্যাহারের পর লেবাননে কোনো না কোনো ধরনের আন্তর্জাতিক বাহিনী প্রয়োজন হবে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম এ তথ্য জানান। শনিবার প্যারিস সফরের সময় তিনি এ কথা বলেন।


১৯৭৮ সালের মার্চ থেকে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যবর্তী বাফার জোনে প্রায় ১০ হাজার ৮০০ জন জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী ইউনাইটেড নেশনস ইনটেরিম ফোর্স ইন লেবানন (ইউনিফিল)-এ দায়িত্ব পালন করে আসছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চাপের মুখে গত বছরের আগস্টে গৃহীত এক প্রস্তাব অনুযায়ী, আগামী ৩১ ডিসেম্বর থেকে এক বছরের মধ্যে ইউনিফিল-কে লেবানন ছাড়তে হবে। প্যারিস থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।


ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে বৈঠকের পরদিন সালাম বলেন, ‘দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে আমাদের সব সময়ই একটি আন্তর্জাতিক উপস্থিতি প্রয়োজন হবে। সম্ভব হলে জাতিসংঘের উপস্থিতিই সবচেয়ে ভালো। কারণ কেবল জাতিসংঘই নিরপেক্ষতা ও নির্লিপ্ততা নিশ্চিত করতে পারে।’ ইসরায়েলের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বৈরিতার ইতিহাসের কারণে এই বাহিনীতে পর্যবেক্ষক ও শান্তিরক্ষী— দুয়ের সমন্বয় থাকতে হবে।


বর্তমানে লেবাননে দক্ষিণাঞ্চলে লেবাননের সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীরা দায়িত্ব পালন করছে। এটি ইসরায়েল ও ইরানপন্থী শিয়া গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতির অংশ।


হিজবুল্লাহর ঘোষিত নিরস্ত্রীকরণ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী সালাম বলেন, এই প্রক্রিয়ার দ্বিতীয় ধাপ ‘দুই সপ্তাহ আগে’ শুরু হয়েছে। লেবাননের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা প্রথম ধাপ শেষ করেছে। এতে লিতানি নদীর দক্ষিণে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণের কথা বলা হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে লিতানি ও আওয়ালি নদীর মধ্যবর্তী এলাকায় নিরস্ত্রীকরণ কার্যক্রম চলবে। উত্তর দিকে অবস্থিত এই এলাকায় হিজবুল্লাহর  উল্লেখযোগ্য প্রভাব রয়েছে। সালাম বলেন, ‘স্পষ্টভাবেই দেখতে পাচ্ছি, দ্বিতীয় ধাপের চাহিদা প্রথম ধাপের চেয়ে ভিন্ন। তবে আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই যে আমরা পিছু হটব না।’ হিজবুল্লাহর বক্তব্য ছিল বেশ কঠোর। 


উল্লেখ্য, ১৯৭৮ সালের লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইউনাইটেড নেশনস ইনটেরিম ফোর্স ইন লেবানন (ইউনিফিল) গঠিত হয়। ওই সময় দক্ষিণাঞ্চলে ফিলিস্তিনি বিদ্রোহী তৎপরতা ও চলমান লেবানন গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।


সূত্র: এএফপি


এসজেড