ঢাকা | বঙ্গাব্দ

"এটা তো অঙ্ক না যে, আমরা ধরে নেব আমাদের বাবারা মৃত"

বিগত সরকারের সময়ে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বিএনপির মতবিনিময় সভায় কাঁদতে কাঁদতে একথা বলেন আওয়ামী সরকারের আমলে গুম হওয়া এক বাবার কিশোরী।
  • নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬
"এটা তো অঙ্ক না যে, আমরা ধরে নেব আমাদের বাবারা মৃত" ছবি: সংগৃহীত।

এটা তো অঙ্ক না যে, আমরা ধরে নেব আমাদের বাবারা মৃত! বিগত সরকারের সময়ে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বিএনপির মতবিনিময় সভায় কাঁদতে কাঁদতে একথা বলেন আওয়ামী সরকারের আমলে গুম হওয়া এক বাবার কিশোরী। কান্নাভেজা কণ্ঠে নিজের দীর্ঘদিনের চাপা কষ্ট তুলে ধরতে গিয়ে আবেগ সামলাতে পারেনি সে।


রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এই সভায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সামনে একে একে নিজেদের না বলা গল্প, অপূর্ণতা আর বাবাহীন জীবনের বেদনা তুলে ধরেন গুমের শিকারদের সন্তান ও স্বজনরা।


এদিন পোডিয়ামে দাঁড়িয়ে কাঁপা কণ্ঠে তারা বলছিলেন, কীভাবে বাবাকে হারিয়ে তাদের জীবন থমকে গেছে, কীভাবে বছরের পর বছর বাবার মুখ দেখার অপেক্ষায় দিন গুনছেন। সন্তানহারা মায়েরা জানাচ্ছিলেন, কত বছর ধরে তারা জানেন না তাদের সন্তান বেঁচে আছে নাকি নেই, কোথায় হারিয়ে গেছে তাদের আদরের মানুষ।


২০১৩ সালে ২ ডিসেম্বর গুম হওয়া সোহেল হোসেনের মেয়ে শাফা হোসেন বলেন, “২০১৩ সালের ২ ডিসেম্বর শাহবাগ থেকে আমার বাবাকে গুম করা হয়। তখন আমার বয়স ছিল মাত্র দুই মাস। এখন আমার বয়স ১৩ বছর। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বাবার অপেক্ষায় আছি, কিন্তু আজও বাবার মুখটা দেখতে পারিনি। বাবার কোনো স্মৃতি নেই আমার। বাবার ছবিটা হাতে নিয়ে কত জায়গায় গেছি, কিন্তু বাবার কোনো খোঁজ পাইনি। বাবাকে ছাড়া জীবনটা অসম্পূর্ণ মনে হয়। আমরা আমাদের বাবাকে ফেরত চাই।”


একই বছরের ৪ ডিসেম্বর গুম হওয়া কায়সার হোসেনের কন্যা লামিয়া আক্তার মিম বলেন, ২০১৩ সালের ৪ ডিসেম্বর বাসা থেকে আমার বাবাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। তখন আমার বয়স ছিল তিন বছর। আজ ১৩ বছর হয়ে গেছে, আমি জানি না ‘বাবা’ জিনিসটা আসলে কী। যদি জানতাম, বাবাকে আর কোনোদিন দেখতে পাবো না, তাহলে সেদিন শক্ত করে বাবাকে জড়িয়ে ধরতাম। বাবার ছবিটা বুকে নিয়ে মায়ের হাত ধরে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি, কিন্তু বাবাকে কোথাও পাইনি। আমি একবার বাবার হাতটা ধরতে চাই। আমার বাবাকে আমার কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হোক।”


তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্টের পর সবার জন্য দেশ স্বাধীন হলেও আমার জন্য হয়নি। আমি এখনো আমার বাবাকে ফেরত পাইনি। যতদিন গুমের শিকার আমার বাবা ও অন্যদের খুঁজে না পাব ততদিন আমাদের জন্য দেশ স্বাধীন হবে না। বাবা ছাড়া আমাদের হাজারো কথা, হাজারো ইচ্ছে মাটিচাপা পড়ে গেছে।


স্বজনদের এসব আর্তনাদ ছুঁয়ে যায় তারেক রহমানকেও। মঞ্চেই বসে তাকে কাঁদতে দেখা যায়।


 

thebgbd.com/NA