ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ট্রাম্প-মাচাদো বৈঠক ‘ইতিবাচক’

ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর ট্রাম্প বলেন, দেশটির জনগণের সমর্থন মাচাদোর নেই।
  • অনলাইন ডেস্ক | ১৬ জানুয়ারি, ২০২৬
ট্রাম্প-মাচাদো বৈঠক ‘ইতিবাচক’ মাচাদো-ট্রাম্প।

ভেনিজুয়েলার বিরোধী দলীয় নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। হোয়াইট হাউস এ বৈঠককে ‘ইতিবাচক’ বলে অভিহিত করেছে। যদিও ট্রাম্প তাকে কার্যত উপেক্ষা করেছেন। এই বৈঠকে  ট্রাম্প প্রকাশ্যেই নোবেল শান্তি পুরস্কারের প্রতি তার আগ্রহ দেখিয়েছেন। ওয়াশিংটন থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।


ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর ট্রাম্প বলেন, তেলসমৃদ্ধ দেশটির জনগণের সমর্থন মাচাদোর নেই। তিনি মাদুরোর ডেপুটি ডেলসি রদ্রিগেজকে সমর্থন দেন। ট্রাম্পের সন্তুষ্টির লক্ষ্যে ৫৮ বছর বয়সী মাচাদো, এমনকি তার নোবেল শান্তি পুরস্কার ট্রাম্পের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার প্রস্তাবও দেন। ট্রাম্পও বৈঠকে তিনি সেটি পেতে পারেন বলে ইঙ্গিত দেন। বৈঠক শেষে মাচাদো হোয়াইট হাউসের বাইরে জড়ো হওয়া উচ্ছ্বসিত সমর্থকদের সঙ্গে দেখা করেন।


হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানান, মাচাদোর সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে বসতে আগ্রহী ছিলেন ট্রাম্প। ৩ জানুয়ারি মাদুরোকে আটক করতে চালানো নাটকীয় মার্কিন সামরিক অভিযানের পর এটিই ছিল দুই জনের প্রথম বৈঠক। বৈঠক শুরু হওয়ার সময় লেভিট সাংবাদিকদের বলেন, ‘মাচাদোর সঙ্গে প্রেসিডেন্ট একটি ভালো ও ইতিবাচক আলোচনা প্রত্যাশা করছেন। তিনি ভেনিজুয়েলার বহু মানুষের জন্য এক অসাধারণ ও সাহসী কণ্ঠস্বর।’ লক্ষণীয়, এই বৈঠকে গণমাধ্যমকে রাখা হয়নি।


লেভিট আরো বলেন, ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার বর্তমান পরিস্থিতি ও দেশটির বাস্তব চিত্র নিয়েও মাচাদোর সঙ্গে কথা বলবেন।


 -‘যা দেখছেন, তাতে সন্তুষ্ট-’


এদিকে আপাতত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রেখেছেন। বিশেষ করে কারাকাস যুক্তরাষ্ট্রকে ভেনেজুয়েলার তেলে প্রবেশাধিকার দেওয়ার পর এ সমর্থন জোরালো হয়েছে। লেভিট বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট যা দেখছেন, তাতে তিনি সন্তুষ্ট।’ ট্রাম্প একদিন ভেনিজুয়েলা নির্বাচন দেখাবার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন, তবে এর নির্দিষ্ট সময় জানাননি।’


ট্রাম্পের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজের সময় মাচাদো গণতান্ত্রিক রূপান্তরের বিষয়টি আবারও সামনে আনার চেষ্টা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। মাদুরো শাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ লড়াইয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ পাওয়া নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, তিনি বুঝতে পারছেন, মাচাদো সেটি তাকে দিতে চান। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘এটি বড় সম্মানের বিষয় হবে।’ 


তবে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি জানিয়েছে, তা সম্ভব নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে কমিটি জানায়, ‘একবার নোবেল পুরস্কার ঘোষণা হলে তা বাতিল, ভাগ বা অন্যের কাছে হস্তান্তর করা যায় না। এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত ও চিরস্থায়ী। একটি পদকের মালিক বদলাতে পারে, কিন্তু নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ীর পরিচয় বদলায় না।’


ডিসেম্বরে নৌপথে পালিয়ে অসলোতে গিয়ে নোবেল পুরস্কার গ্রহণের পর মাচাদো ভেনিজুয়েলায় ফেরেননি। কার্যত তিনি এখন নির্বাসনে রয়েছেন। ভেনিজুয়েলার বিরোধীরা দাবি করেছে, মাদুরো ২০২৪ সালের নির্বাচন কারচুপি করে মাচাদোর দলের প্রার্থী এদমুন্দো গনসালেস উরুতিয়ার কাছ থেকে বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছেন। ওয়াশিংটনও তাদের এ দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।


সূত্র: এএফপি


এসজেড