ঢাকা | বঙ্গাব্দ

তেল হস্তান্তর করবে ভেনিজুয়েলা

ট্রাম্প বলেন, ‘উচ্চমানের, নিষেধাজ্ঞাভুক্ত’ ৩০৫০ মিলিয়ন ব্যারেল ভেনিজুয়েলান অপরিশোধিত তেল যুক্তরাষ্ট্রের বন্দরে পাঠানো হবে।
  • অনলাইন ডেস্ক | ০৭ জানুয়ারি, ২০২৬
তেল হস্তান্তর করবে ভেনিজুয়েলা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার বলেছেন, ভেনিজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কয়েক কোটি ব্যারেল তেল হস্তান্তর করবে। যুক্তরাষ্ট্রের এক অভিযানে দেশটির যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী প্রেসিডেন্ট ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার মাত্র কয়েক দিন পর এই ঘোষণা এলো।


কারাকাস থেকে এএফপি জানায়, ট্রাম্প বলেন, ‘উচ্চমানের, নিষেধাজ্ঞাভুক্ত’ ৩০৫০ মিলিয়ন ব্যারেল ভেনিজুয়েলান অপরিশোধিত তেল যুক্তরাষ্ট্রের বন্দরে পাঠানো হবে। বর্তমান বাজারদরে এর সম্ভবত ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি রাজস্ব তার ব্যক্তিগত নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে।


এটি এখনও স্পষ্ট নয়, ভেনিজুয়েলার নতুন শাসক অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রোদ্রিগেজ এই তেল হস্তান্তরে সম্মত হয়েছেন কী না, পরিকল্পনাটি কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, কিংবা এর আইনি ভিত্তি কী। যদি নিশ্চিত হয়, তবে এটি হবে ভেনিজুয়েলার নতুন নেতা ও তার সামরিক সমর্থিত সরকার যুক্তরাষ্ট্রের একগুচ্ছ ব্যতিক্রমধর্মী দাবির সঙ্গে সমঝোতায় আগ্রহী- এর প্রথম বড় ইঙ্গিত। মন্তব্য জানতে চাওয়া হলে ভেনিজুয়েলার কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি।


শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী কারাকাস থেকে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে ধরে মাদক সংক্রান্ত অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি করতে নিউইয়র্কে নিয়ে যায়। এরপর থেকে ট্রাম্প বলে আসছেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনিজুয়েলাকে ‘চালাবে’ এবং বিশ্বের সর্ববৃহৎ প্রমাণিত তেল মজুত থাকা দেশটির তেল নিয়ন্ত্রণ করবে মার্কিন কোম্পানিগুলো।


মাদুরোর ঘনিষ্ঠ মহলের দীর্ঘদিনের সদস্য—উপ-রাষ্ট্রপতি ও জ্বালানিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা—অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট রোদ্রিগেজ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতার অঙ্গীকার করেছেন; ট্রাম্প আরও বিস্তৃত শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের পথে এগোতে পারেন—এমন আশঙ্কার মধ্যেই তার এই অবস্থান।


ওয়াশিংটনের কর্মসূচি মান্য না করলে তেল শিল্পের নিয়ন্ত্রণ ছাড়তে এবং কিউবা, চীন, ইরান ও রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক দুর্বল করতে অস্বীকৃতি জানালে  রোদ্রিগেজকে ‘খুব বড় মূল্য, সম্ভবত মাদুরোর চেয়েও বড়’ দিতে হবে- এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন ট্রাম্প। তবে সময়বিশেষে রোদ্রিগেজকে অনড় মনে হয়েছে এবং তিনি সামরিক, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার নিয়ন্ত্রণে থাকা কট্টরপন্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে আছেন বলেও মনে হয়েছে।


‘ভেনেজুয়েলায় আমাদের দেশ শাসন করছে ভেনিজুয়েলার সরকার—অন্য কেউ নয়,’ মঙ্গলবার বলেন রোদ্রিগেজ। ‘ভেনেজুয়েলাকে কোনো বিদেশি প্রতিনিধি শাসন করছে না।’ এর বিপরীতে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ওয়াশিংটন এখন দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটির ‘দায়িত্বে’ এবং পশ্চিম গোলার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যের এক নতুন মতবাদ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেছেন।


‘ট্রাম্প নির্দ্বিধায় একটি সার্বভৌম দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রটেক্টোরেট প্রতিষ্ঠা করছেন এবং তার সম্পদের ওপর অধিকার দাবি করছেন,’ বলেন সাবেক ভেনেজুয়েলান কূটনীতিক আলফ্রেডো তোরো হার্ডি। তিনি একে ‘লাতিন আমেরিকায় এক শতাব্দীরও বেশি সময়ে দেখা যায়নি—এমন কিছু’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

 

ট্রাম্প জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইটকে ৩০৫০ মিলিয়ন ব্যারেল তেলের পরিকল্পিত হস্তান্তর ও বিক্রয় ‘তাৎক্ষণিকভাবে’ কার্যকর করতে দায়িত্ব দেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্ষমতায় টিকে থাকতে রোদ্রিগেজের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ—একদিকে ট্রাম্পের দাবি, অন্যদিকে নিরাপত্তা বাহিনী ও আধাসামরিক শক্তির নিয়ন্ত্রণে থাকা সরকারি কট্টরপন্থীদের চাপ—দুটির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা।


রোদ্রিগেজ শক্তিশালী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেলো ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদ্রিনো লোপেজের সঙ্গে ঐক্যের বার্তা দিতে চেয়েছেন। এ দু’জনকে মাদুরো প্রশাসনের প্রধান ক্ষমতাকেন্দ্র হিসেবে দেখা হয়। শনিবার থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর দৃশ্যমান উপস্থিতি রয়েছে রাস্তায়, এবং কাবেলো হাজার হাজার মাদুরো সমর্থককে নিয়ে কারাকাসে মিছিলের নেতৃত্ব দিয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্টের মুক্তির দাবিতে।


সূত্র: এএফপি


এসজেড