ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বুধবার নিরাপত্তা বাহিনীকে অর্থনৈতিক বিক্ষোভ দমনে কঠোর ব্যবস্থা না নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সশস্ত্র ‘দাঙ্গাকারীদের’ পার্থক্য করার কথা বলেন। প্যারিস থেকে এএফপি এ খবর জানায়।
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সরকারে প্রেসিডেন্ট সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর নন; সেই দায়িত্বে আছেন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তবে বুধবার পেজেশকিয়ানের নিরাপত্তা বাহিনীকে সংযম দেখানোর নির্দেশ দেওয়া থেকে বোঝা যায়, সংকট পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা করছে সরকার।
ক্যাবিনেট বৈঠকের পর বার্তা সংস্থা মেহর প্রকাশিত এক ভিডিওতে ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ জাফর কায়েমপানাহ বলেন, পেজেশকিয়ান ‘বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা না নিতে নির্দেশ দিয়েছেন’। তিনি বলেন, ‘যারা আগ্নেয়াস্ত্র, ছুরি ও মাচেটি বহন করে এবং পুলিশ স্টেশন ও সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়, তারা দাঙ্গাকারী। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দাঙ্গাকারীদের আলাদা করতে হবে।’
নরওয়ে-ভিত্তিক এনজিও ‘ইরান হিউম্যান রাইটস’ (আইএইচআর) মঙ্গলবার জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে এখন পর্যন্ত অন্তত ২৭ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৮ বছরের কম বয়সী পাঁচজন রয়েছে। অন্যদিকে, সরকারি ঘোষণার বরাতে ইরানি গণমাধ্যমে ১৩ জনের মৃত্যুর খবর দেওয়া হয়েছে; এর মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং মঙ্গলবার গুলিতে নিহত এক পুলিশ সদস্যও রয়েছেন।
ইরানি সেনাবাহিনীর প্রধান ও শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের একজন জেনারেল আমির হাতামি সতর্ক করে বলেছেন, তেহরান বাইরের কোনো হুমকি ‘জবাব ছাড়া’ সহ্য করবে না। ফারস বার্তা সংস্থার বরাতে তিনি বলেন, ‘শত্রু যদি ভুল করে, তবে ইরানের জবাব গত জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধের চেয়েও কঠোর হবে।’
ইরানে সর্বশেষ বিক্ষোভ আন্দোলন শুরু হয় ২৮ ডিসেম্বর, তেহরানের একটি মোবাইল ফোন বাজারে ব্যবসায়ীদের ধর্মঘটের মাধ্যমে। এরপর বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে অর্থনীতির কেন্দ্রস্থল রাজধানীর গ্র্যান্ড বাজারসহ আরও কয়েকটি শহর ও নগরে, বিশেষ করে দেশের পশ্চিমাঞ্চলে।
এদিকে বুধবার রাজধানীর অন্য এলাকাগুলোতে পরিস্থিতি শান্ত ছিল বলে মনে হয়েছে। এএফপি প্রতিবেদকরা দেখেছেন, শহরের উত্তর-দক্ষিণ জুড়ে বিস্তৃত প্রধান সড়ক ভালি-আসর এলাকায় দোকানপাটে স্বাভাবিকভাবেই ব্যবসা চলছে।
সূত্র: এএফপি
এসজেড