ঢাকা | বঙ্গাব্দ

হাদিকে গুলির আগের রাতে বান্ধবীকে চাঞ্চল্যকর বার্তা দেন ফয়সাল

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী জুলাই যোদ্ধা শরিফ ওসমান বিন হাদির ওপর গুলির আগের রাতেই হত্যাচেষ্টার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন শুটার ফয়সাল। ঢাকার সাভারের একটি রিসোর্টে অবস্থানকালে তিনি তার কথিত বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমাকে জানান, পরদিন এমন একটি ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে—যা ‘সারা দেশ কাঁপাবে’। পরদিনই রাজধানীর পল্টন এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে হাদির ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে।
  • নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৫
হাদিকে গুলির আগের রাতে বান্ধবীকে চাঞ্চল্যকর বার্তা দেন ফয়সাল ছবি : সংগৃহীত।

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী জুলাই যোদ্ধা শরিফ ওসমান বিন হাদির ওপর গুলির আগের রাতেই হত্যাচেষ্টার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন শুটার ফয়সাল। ঢাকার সাভারের একটি রিসোর্টে অবস্থানকালে তিনি তার কথিত বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমাকে জানান, পরদিন এমন একটি ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে—যা ‘সারা দেশ কাঁপাবে’। পরদিনই রাজধানীর পল্টন এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে হাদির ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে।
 

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে উঠে এসেছে, মোহাম্মদপুরের এক সাবেক কাউন্সিলর ছিলেন এই হত্যাচেষ্টার মূল পরিকল্পনাকারী। অন্তত ২০ জনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র এই ঘটনার পরিকল্পনা, অর্থায়ন, অস্ত্র সরবরাহ, পালিয়ে যাওয়া এবং সীমান্ত পারাপারে সহায়তার সঙ্গে জড়িত ছিল।

র‍্যাব ও পুলিশের অভিযানে এখন পর্যন্ত ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, ম্যাগাজিন এবং কয়েক কোটি টাকার চেক। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আশঙ্কা করছে, আরও শুটার গ্রুপ মাঠে সক্রিয় থাকতে পারে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, ওসমান হাদিকে হত্যার লক্ষ্যে কয়েক কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। শুটার ফয়সালের বাসা থেকে উদ্ধার করা চেকগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে, যেগুলোতে ফয়সালের স্বাক্ষর রয়েছে।

মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের কর্নেল গলিতে ফয়সালের বোনের বাসার নিচ থেকে হত্যাচেষ্টায় ব্যবহৃত ২টি ম্যাগাজিন ও ১১ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে র‍্যাব। এছাড়া নরসিংদীর তরুয়া এলাকায় একটি বিল থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, একটি খেলনা পিস্তল ও ৪১ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

র‍্যাব-৩ শুটার ফয়সালের বাবা হুমায়ুন কবির ও মা মোসাম্মাৎ হাসি বেগমকে গ্রেপ্তার করে পরে ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার হওয়া ৯ জন হলেন—ফয়সালের স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ শিপু, কথিত বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা, মোটরসাইকেলের কথিত মালিক আবদুল হান্নান, মানব পাচার সংশ্লিষ্ট সন্দেহে সঞ্জয় চিসিম ও সিবিরন দিও, মোটরসাইকেলের মূল মালিক মো. কবির এবং ফয়সালের বাবা-মা।

জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ঘটনার আগের রাতে ফয়সাল ও আলমগীর সাভারের গ্রিন জোন রিসোর্টে অবস্থান করেন। সেখানেই ফয়সাল মারিয়াকে বলেন, ‘কাল এমন কিছু হবে, সারা দেশ কাঁপবে’। পরদিন সকালে তারা ঢাকায় ফেরেন।

হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের নম্বর প্লেট ছিল ভুয়া। ঘটনার পর আগারগাঁওয়ের কর্ণেল গলিতে ফয়সালের বোনের বাসায় গিয়ে প্লেট পরিবর্তন করা হয়। পালাতে প্রাইভেট কারের ব্যবস্থাও করা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, শুক্রবার দুপুর ২টা ২০ মিনিটে ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট এলাকায় ওসমান হাদির ওপর গুলি চালানো হয়। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে এবং সেখান থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়।
সূত্র: যুগান্তর

thebgbd.com/NA