বিষণ্নতা কাটিয়ে ওঠার পর এন্টিডিপ্রেসেন্ট ঔষধ বন্ধ করার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হল ধীরে ধীরে এর মাত্রা বা ডোজ কমানো এবং একই সঙ্গে মানসিক সহায়তা নেওয়া। ‘দ্য ল্যানসেট সাইকিয়াট্রি’ জার্নালে প্রকাশিত নতুন এক গবেষণায় এমনটাই জানানো হয়েছে। প্যারিস থেকে এএফপি এ খবর জানায়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বের পাঁচ শতাংশের বেশি মানুষ বিষণ্নতায় ভোগে। এ রোগের চিকিৎসায় কয়েক দশক ধরে নানা ধরনের ঔষধ ব্যবহার হয়ে আসছে। তবে কীভাবে এ ঔষধ বন্ধ করতে হবে, সেটি সবসময়ই এক জটিল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ফ্রান্স ডিপ্রেশন অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি ক্রিস্টিন ভিললং এএফপিকে বলেন, ‘এন্টিডিপ্রেসেন্টের ডোজ পরিবর্তন বা কমানো হলেই, রোগীর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। কিন্তু এ বিষয়ে কোনো নির্দেশিকা নেই। অনেক সময় ঔষধ বন্ধ করার পর কোনো ফলো আপও করা হয় না।’
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ‘ডিপ্রেসক্রাইবিং’ নামে একটি পদ্ধতি মনোচিকিৎসকদের মধ্যে জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। এই পদ্ধতিতে ধীরে ধীরে ডোজ কমানো হয়। অতিরিক্ত প্রেসক্রিপশন, দীর্ঘমেয়াদি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, ঔষধ ছাড়ার জটিলতা বা পুনরায় অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বিগ্ন মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা এ পদ্ধতিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন।
এবার ‘দ্য ল্যানসেট সাইকিয়াট্রি’ জার্নালে প্রকাশিত নতুন গবেষণায় প্রায় ১৭ হাজার মানুষের ওপর করা ৭৬টি ভিন্ন র্যান্ডমাইজড কন্ট্রোল্ড ট্রায়ালের তথ্য মূল্যায়ন করা হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ধীরে ধীরে ঔষধের মাত্রা কমানো এবং একই সঙ্গে মনোবিশেষজ্ঞের সহায়তা নেওয়াই সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি। হঠাৎ ঔষধ বন্ধ করা বা খুব দ্রুত মাত্রা কমানোর তুলনায় এ পদ্ধতি প্রতি পাঁচজন রোগীর মধ্যে একজনের পুনরায় অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি কমাতে পারে।
গবেষণায় বলা হয়েছে, সব ক্ষেত্রেই সবচেয়ে খারাপ বিকল্প হলো হঠাৎ করে ওষুধ বন্ধ করে দেওয়া। গবেষণার সহ-লেখক ইতালির ভেরোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের দেবোরা জ্যাকোলেত্তি বলেন, ‘আমাদের ফলাফল বলছে, এন্টিডিপ্রেসেন্ট পুনরায় বিষণ্নতা ফিরে আসা রোধে কার্যকর হলেও সবার জন্য এটি দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা নাও হতে পারে।’
তবে কিছু বিশেষজ্ঞ সতর্ক করেছেন। বার্লিনের শারিতে বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের জনাথন হেন্সলার জানান, খুব ধীরে ঔষধ কমালেও হঠাৎ করে থেরাপি বন্ধ করা যাবে না, এতে পুনরায় অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়। এই গবেষণা মনোচিকিৎসা কতটা জরুরি তা তুলে ধরেছে।
ফরাসি মনোরোগ বিশেষজ্ঞ মায়েভা মুসো বলেন, এন্টিডিপ্রেসেন্ট থেকে বেরিয়ে আসার বিষয়টি প্রায়ই উপেক্ষিত হয়। তিনি এএফপিকে বলেন, ‘সম্প্রতি রেসিডেন্সি (বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রশিক্ষণ পর্ব) শেষ করেছি, কিন্তু এই পুরো সময়ে বিষয়টি কখনও আলোচনা করা হয়নি।’
এমনকি রোগীরা যখন ঔষধ কমাতে চান, তখন চিকিৎসকরা সেটিকে অনেক সময় রোগী তার রোগকে অস্বীকার করতে চাওয়ার প্রবণতা হিসেবে দেখেন। তবে ভিললং বলেন, গবেষণায় যে মানসিক সহায়তার কথা বলা হয়েছে, বাস্তবে তা সবার জন্য সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, ‘গবেষণার ফলাফল আদর্শ পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়। কিন্তু বাস্তবতা তার থেকে ভিন্ন। কখনো কখনো মনোরোগ বিশেষজ্ঞ পাওয়া যায় না। এমনকি এক-দুই মাস দেখাও হয় না। এ সময় যদি রোগী ঔষধ কমাতে গিয়ে সমস্যায় পড়েন, তখন তার সঙ্গে কথা বলার কেউ থাকে না।’
সূত্র: এএফপি
এসজেড