কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নে বৃহস্পতিবার পশ্চিমাঞ্চলীয় তেল উৎপাদনকারী আলবার্টায় প্রদেশের সঙ্গে পাইপলাইন সম্প্রসারণের বিষয়ে সমঝোতা স্মারকে সই করেছেন। এ উদ্যোগ মুহূর্তেই জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে অটোয়ার প্রতিশ্রুতির বিষয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়িয়েছে। টরন্টো থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
এশিয়ায় তেল রপ্তানি বাড়ানোর লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারকে আলবার্টা থেকে কানাডার প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে একটি পাইপলাইন নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্য যুদ্ধের প্রভাব আংশিকভাবে কাটাতে কার্নির লক্ষ্য অনুযায়ী বৈদেশিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে এটি করা হচ্ছে।
আলবার্টার রক্ষণশীল প্রধানমন্ত্রী ড্যানিয়েল স্মিথের সঙ্গে এমওইউ সইয়ের আগে কার্নি বলেন, চুক্তিতে অবশ্যই এশিয়ায় একটি পাইপলাইন নির্মাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। রপ্তানি সম্প্রসারণের পাশাপাশি, পরিকল্পনায় আলবার্টার তেল ও গ্যাস উৎপাদনও বাড়ানোর ব্যাপারেও সমর্থন দেওয়া হয়েছে।
কার্নির এ চুক্তি লিবারাল পার্টির নীতি পরিবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করছে। একই সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর দশ বছরের নীতি থেকে সরাসরি বিচ্যুতির প্রতিফলন। অন্যদিকে, কার্নির সংস্কৃতিমন্ত্রী স্টিফেন গিলবিল্ট পাইপলাইন চুক্তি সইয়ের কয়েক ঘন্টার মধ্যেই এর প্রতিবাদে পদত্যাগ করেছেন। তিনি ট্রুডো সরকারে পরিবেশমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন।
গিলবিল্ট এক বিবৃতিতে বলেন, রাজনীতিতে এসেছি জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। আমি আলবার্টার সমঝোতা স্মারকের ‘ঘোর বিরোধী’। কারণ এটি কানাডাকে গ্রীনহাউস গ্যাস নির্গমন লক্ষ্যমাত্রা থেকে আরও দূরে সরিয়ে দেবে।
ট্রুডো-যুগে বেশ কয়েকটি জলবায়ু নীতির রূপকার ছিলেন গিলবিল্ট। যদিও ধারণা করা হয়, ট্রুডো-গিলবিল্টের জলবায়ু নীতিমালাই আলবার্টা ও অটোয়ার সম্পর্ক অবনতির অন্যতম কারণ। আগের লিবারেল সরকারের বিরুদ্ধে আলবার্টার অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ‘শ্বাসরোধ’ করে দেওয়ার অভিযোগ তোলেন স্মিথ। তবে বৃহস্পতিবার চুক্তি সইয়ের পর তিনি ট্রুডোকে কটাক্ষ করে বলেন, গত ১০ বছর অত্যন্ত কঠিন সময় ছিল।
- কার্বন ক্যাপচার -
আলবার্টায় বেড়ে ওঠা কার্নি এখন স্মিথের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করেছেন এবং কানাডাকে শক্তিশালী শক্তি হিসেবে গড়ে তোলার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। যে নিঃসরণসীমা এখনও কার্যকর হয়নি, সেটি ভবিষ্যতে চালু না করার পরিকল্পনায় সম্মত হয়েছে অটোয়া।
কানাডার রাজনীতিতে প্রবেশের আগে জাতিসংঘের জলবায়ু দূত হিসেবে কাজ করেছেন প্রধানমন্ত্রী কার্নি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রকল্পটি কানাডার তেল খাতকে আরও টেকসই করবে। আমরা এটি করব পাথওয়েজ প্রকল্পের সঙ্গে মিলিয়ে; আর সেটি হবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় কার্বন ক্যাপচার প্রকল্প।
জলবায়ু বিজ্ঞান বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ প্যানেল আইপিসিসি বলছে এটি কার্বন ক্যাপচার নির্গমন কমানোর একটি বিকল্প হতে পারে। যদিও সমালোচকরা এটিকে জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর অজুহাত হিসেবে নিন্দা করেছেন। আলবার্টায় নতুন পাইপলাইন বাস্তবায়ন এখনও বহু দূরের বিষয়। পরিকল্পনায় ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক প্রকল্প প্রস্তাবনা প্রস্তুতের কথা বলা হয়েছে।
সূত্র: এএফপি
এসজেড