হংকংয়ে কয়েক দশকের মধ্যে ঘটে যাওয়া সবচেয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৫ জনে পৌঁছেছে। বুধবারের ঘটনায় নিখোঁজ ২৫০ জনের বেশি মানুষের সন্ধানে দমকল কর্মীরা আজ বৃহস্পতিবার আবাসিক ভবনগুলোতে তল্লাশি অব্যাহত রেখেছেন।
হংকং থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ২ হাজার ইউনিটের আটটি ভবনবিশিষ্ট আবাসিক কমপ্লেক্সে আগুন লাগার ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও কিছু জানালায় এখনো আগুনের শিখা দেখা যাচ্ছে। পুড়ে কালো হয়ে যাওয়া ভবনের বাইরের দিকের দেয়ালে পানি ছিটিয়ে দিচ্ছেন দমকলকর্মীরা।
ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত কীভাবে হলো, তা তদন্তে কর্তৃপক্ষ কাজ শুরু করেছে। নির্মাণকাজের অংশ হিসেবে ভবনগুলোর চারপাশে থাকা বাঁশের মাচা ও প্লাস্টিকের জালের বিষয়টিও তদন্তে খতিয়ে দেখা হবে। হংকংয়ের দুর্নীতি দমন সংস্থা জানিয়েছে, তারা একটি আবাসিক ভবনে চলমান সংস্কারকাজ নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। এর কয়েক ঘণ্টা আগে পুলিশ জানিয়েছে, আগুনের স্থানে দায়িত্ব-জ্ঞানহীনভাবে ফোম প্যাকেজিং করার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আজ সরকারি কর্মকর্তারা জানান, আটটি অ্যাপার্টমেন্ট ব্লকের মধ্যে চারটিতে আগুন শেষ পর্যন্ত নিভিয়ে ফেলা হয়েছে এবং আরো তিনটির আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে, একটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। হংকংয়ের উত্তরাঞ্চলের তাই পো জেলার ওয়াং ফুক কোর্টের বেশ কয়েকজন বাসিন্দা এএফপি’কে জানান, তারা কোনো ফায়ার অ্যালার্ম শোনেননি এবং বিপদের কথা জানাতে দরজায় দরজায় গিয়ে প্রতিবেশীদের সতর্ক করতে হয়েছে।
সুয়েন নামে এক ব্যক্তি জানান, আগুন খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছিল। দেখলাম, পানি দিয়ে কয়েকটি ভবন আগুনের কবল থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। মনে হচ্ছিল, সেটা খুবই ধীর গতির ছিল। ডোরবেল বাজানো, দরজায় নক করা, প্রতিবেশীদের সতর্ক করা, বেরিয়ে যেতে বলা— এটাই ছিল পরিস্থিতি। আগুনের ঘটনায় দিশেহারা লোকজন ভবনের কাছে জড়ো হয় বিপদগ্রস্ত মানুষ ও দমকলকর্মীদের সাহায্য করতে।
সূত্র: এএফপি
এসজেড