ঢাকা | বঙ্গাব্দ

অধরা রইলো জীবাশ্ম জ্বালানি

চুক্তিতে বলা হয়, ২০৩৫ সালের মধ্যে দরিদ্র দেশগুলোর জন্য জলবায়ু অভিযোজন তহবিল অন্তত তিনগুণ বাড়ানো হবে।
  • অনলাইন ডেস্ক | ২৩ নভেম্বর, ২০২৫
অধরা রইলো জীবাশ্ম জ্বালানি কপ৩০ সম্মেলন।

ব্রাজিলের আমাজনে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন (কপ৩০) শনিবার সমাপ্ত হয়েছে। এতে জীবাশ্ম জ্বালানি পর্যায়ক্রমে বন্ধের দুর্বল শর্ত মেনে নিয়ে প্রায় ২০০ দেশ একটি সীমিত চুক্তিতে পৌঁছেছে। বেলেম থেকে এএফপি এ খবর জানায়।


দুই সপ্তাহের দীর্ঘ আলোচনার পর সর্বসম্মতভাবে চুক্তিটি গৃহীত হয়। তবে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সম্মেলন বর্জন করায় যুক্তরাষ্ট্র অনুপস্থিত থাকে। চুক্তি গৃহীত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গরম-আর্দ্র বেলেমের সম্মেলন হল হাততালিতে মুখরিত হয়। বিক্ষোভ, অগ্নিকাণ্ড এবং রাস্তাজুড়ে মিছিল সব মিলিয়ে নাটকীয় এক সম্মেলনের এখানেই সমাপ্তি হয়।


ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা বলেন, এই চুক্তি প্রমাণ করেছে, সংকটে পড়লে বিভক্ত বিশ্ব এখনও এক হতে পারে। দক্ষিণ আফ্রিকায় জি২০ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে দু’টি পথ ছিল, চালিয়ে যাওয়া বা হাল ছেড়ে দেওয়া। আমরা প্রথম পথ বেছে নিয়েছি। বহুপাক্ষিকতাই জয়ী হয়েছে।’


তবে ইউরোপীয় মন্ত্রীরা স্বীকার করেছেন, পুরো প্রক্রিয়াটি ভেঙে পড়া থেকে রক্ষা করতে তারা দুর্বল চুক্তিতে রাজি হয়েছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের জলবায়ু প্রধান ভপকে হোকস্ত্রা বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমরা আরও বেশি কিছু চেয়েছিলাম। জানি এটা কিছুটা অধরা, কিন্তু একসঙ্গে কিছু করার মধ্যে বিশাল মূল্য রয়েছে।’


কপ-৩০ এ চীনের প্রতিনিধিদলের প্রধান লি গাও এএফপিকে বলেন, এই সম্মেলন সফল হিসেবে বিবেচিত হবে। লি বলেন, ‘আমরা একটি অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতিতে এই সফলতা অর্জন করেছি, যা প্রমাণ করে যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সংহতি দেখাতে এবং যৌথ প্রচেষ্টা চালাতে আগ্রহী।’


ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত এবং চীনের এক যৌথ বিবৃতিতে ভারত এই চুক্তিকে ‘অর্থবহ’ বলে প্রশংসা করে।


বিশ্বের জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ ৩৯টি দেশের জোট ‘অ্যালায়েন্স অফ স্মল আইল্যান্ড স্টেটস’ (এওসিস) বলেছে, চুক্তিটিতে ‘ঘাটতি আছে, তবে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এটাও প্রয়োজনীয় অগ্রগতি।’ তেল, গ্যাস ও কয়লা থেকে বেরিয়ে আসার কৌশল ছাড়া আলোচনায় অংশ না নেওয়ার হুমকি দেয় বহু দেশ। শেষ পর্যন্ত চুক্তিটিতে ‘জীবাশ্ম জ্বালানি’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়নি।


কপ৩০ সভাপতি আন্দ্রে কোরেয়া দো লাগো বলেন, ‘আমরা জানি আপনাদের মধ্যে কেউ কেউ আলোচ্য বিষয়ে আরও বড় আকাঙ্ক্ষা রেখেছেন।’ সান্ত্বনা হিসেবে তিনি জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে বেরিয়ে আসার একটি স্বেচ্ছা ‘রোডম্যাপ’ তৈরির প্রস্তাব দেন।


কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো ঘোষণা করেন, তার দেশ এই চুক্তি মানবে না। আগামী এপ্রিলেই তারা জীবাশ্ম জ্বালানি পর্যায়ক্রমে বন্ধে বিশ্বে প্রথম সম্মেলন আয়োজন করবে। লুলার সমর্থনে রোডম্যাপ ধারণা এগোলেও তেল উৎপাদনকারী সৌদি আরব, কয়লা উৎপাদনকারী ভারতসহ বড় উৎপাদক দেশগুলোর বিরোধিতায় তা থেমে যায়।


গ্রিনপিস ব্রাজিলের ক্যারোলিনা পাসকোয়ালি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট লুলা জীবাশ্ম জ্বালানি ও বন উজাড় বন্ধের জন্য রোডম্যাপের আহ্বান জানিয়ে উচ্চ মান নির্ধারণ করেন, কিন্তু একটি বিভক্ত বহুপাক্ষিক বিশ্ব সেই উচ্চতাটি ছুঁতে পারেনি।’


যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতা ও বৈশ্বিক রাজনীতির বাস্তবতায় বড় কোনো চুক্তির আশা কম ছিল। তবু উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য কিছু সফলতা এসেছে। চুক্তিতে বলা হয়, ২০৩৫ সালের মধ্যে দরিদ্র দেশগুলোর জন্য জলবায়ু অভিযোজন তহবিল অন্তত তিনগুণ বাড়ানো হবে। 


একজন বাংলাদেশি আলোচক এএফপিকে বলেন, এটি ন্যূনতম অর্জন। তিনি আরও বলেন, তবে ‘লড়াই অব্যাহত থাকবে।’


নেপালের আলোচক রাজু পণ্ডিত বলেন, এই সম্মেলন ‘জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি।’ চীন এটিকে তাদের বিজয় হিসেবে দেখছে। কারণ, কপ চুক্তিতে প্রথমবারের মতো বাণিজ্য ব্যবস্থা নিয়ে কঠোর ভাষা প্রয়োগ করা হয়েছে।


সূত্র: এএফপি


এসজেড