ঢাকা | বঙ্গাব্দ

সিটি-ড্যাফোডিল সংঘাতে পাল্টাপাল্টি মামলা দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের

সাভারের খাগান এলাকায় অবস্থিত সিটি ইউনিভার্সিটিতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের নামে মামলা হয়েছে। অপরদিকে, শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায় ও নির্যাতনের অভিযোগে সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেছে ড্যাফোডিল কর্তৃপক্ষ।
  • নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৯ অক্টোবর, ২০২৫
সিটি-ড্যাফোডিল সংঘাতে পাল্টাপাল্টি মামলা দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছবি : সংগৃহীত।

সাভারের খাগান এলাকায় অবস্থিত সিটি ইউনিভার্সিটিতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের নামে মামলা হয়েছে। অপরদিকে, শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায় ও নির্যাতনের অভিযোগে সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেছে ড্যাফোডিল কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) রাতে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি লিখিত এজাহার দায়েরের পর সাভার মডেল থানা পুলিশ মামলা দুটি রেকর্ড করে। বুধবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান।

সিটি ইউনিভার্সিটির পক্ষে দায়ের করা মামলাটি (নম্বর–১০৬) করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মীর আকতার হোসেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ফাহাদসহ অজ্ঞাতপরিচয় সহস্রাধিক শিক্ষার্থী অস্ত্রসহ সিটি ইউনিভার্সিটিতে প্রবেশ করে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালায়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ২০ কোটি টাকার ক্ষতি হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু কর্মকর্তা অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা ও প্ররোচনা দিয়েছেন বলেও মামলায় দাবি করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির পক্ষে দায়ের করা পাল্টা মামলাটি (নম্বর–১০৭) করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আফতাব উদ্দিন আহম্মেদ খান। এতে অভিযোগ করা হয়েছে, সিটি ইউনিভার্সিটির প্রায় ২৫০ জন অজ্ঞাতনামা শিক্ষার্থী পরস্পর যোগসাজশে ড্যাফোডিলের শিক্ষার্থীদের উপর হামলা চালায়, মারধর করে গুরুতর জখম করে ও জোরপূর্বক মিথ্যা স্বীকারোক্তি আদায় করে। মামলায় আরও বলা হয়েছে, ড্যাফোডিলের শিক্ষার্থীদের ভাড়া বাসা ‘ব্যাচেলর প্যারাডাইস’-এ হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয় এবং ১১ জন শিক্ষার্থীকে রাতভর জিম্মি করে রেখে ভয়ভীতি ও নির্যাতনের মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিতে বাধ্য করা হয়।

সংঘাতের ঘটনার পর মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. নুরুল ইসলাম বলেন, “শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে, সেটির কারণ ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করতে হবে। আমরা উভয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকে লিখিত বক্তব্য নিচ্ছি এবং সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন জমা দেব।”

তিনি আরও বলেন, “তদন্ত প্রতিবেদন দ্রুত জমা দেওয়া হবে এবং ক্যাম্পাসের কার্যক্রম যেন শিগগিরই স্বাভাবিক হয়, সেটিও আমরা নিশ্চিত করতে চাই।”

প্রসঙ্গত, গত রোববার সন্ধ্যায় ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের ভাড়া বাসা ‘ব্যাচেলর প্যারাডাইস’-এর পাশে সিটি ইউনিভার্সিটির এক শিক্ষার্থীর অসতর্ক আচরণকে কেন্দ্র করে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এরপর রাত ৯টার দিকে সিটি ইউনিভার্সিটির প্রায় অর্ধশত শিক্ষার্থী দেশীয় অস্ত্র ও ইটপাটকেল নিয়ে ওই বাসায় হামলা চালায়। এর জের ধরে রাত ১২টার দিকে ড্যাফোডিলের শিক্ষার্থীরা পাল্টা হামলা চালিয়ে সিটি ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।

ঘটনায় সিটি ইউনিভার্সিটির তিনটি বাস, একটি প্রাইভেট কার, মোটরসাইকেলসহ প্রশাসনিক ভবনের বিভিন্ন কক্ষ ভাঙচুর করা হয়। পরে রাত সাড়ে ৩টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন আলোচনার মাধ্যমে আটকে পড়া শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে। তবে ড্যাফোডিল কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেছে, তাদের শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে জোর করে মিথ্যা জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

thebgbd.com/NA