ঢাকা | বঙ্গাব্দ

জুলাই শহীদের মেয়েকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ : দুই কিশোরকে ১৩ বছর করে, অন্যজনের ১০ বছরের কারাদণ্ড

পটুয়াখালীর আলোচিত জুলাই শহীদ কন্যা লামিয়া সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও আত্মহত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। এই ঘটনায় অভিযুক্ত তিন আসামিকে ১০ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। এছাড়া দুই আসামিকে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে অতিরিক্ত তিন বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
  • নিজস্ব প্রতিবেদক | ২২ অক্টোবর, ২০২৫
জুলাই শহীদের মেয়েকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ :  দুই কিশোরকে ১৩ বছর করে, অন্যজনের ১০ বছরের কারাদণ্ড ছবি : সংগৃহীত।

পটুয়াখালীর আলোচিত জুলাই শহীদ কন্যা লামিয়া সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও আত্মহত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। এই ঘটনায় অভিযুক্ত তিন আসামিকে ১০ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। এছাড়া দুই আসামিকে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে অতিরিক্ত তিন বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

আজ বুধবার (২২ অক্টোবর) সকালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক নিলুফার শিরিন এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—শাকিব মুন্সি, সিফাত মুন্সি ও ইমরান মুন্সি।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এডভোকেট আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, ‘তিন আসামির বয়সই ১৮ বছরের নিচে হওয়ায় শিশু আইনে বিচার সম্পন্ন করা হয়েছে। আদালত প্রমাণিত অভিযোগের ভিত্তিতে এই রায় ঘোষণা করেছেন।’

অন্যদিকে, লামিয়ার পরিবার রায়ের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানিয়েছে। তারা জানিয়েছেন, এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।

লামিয়ার মা রুমা বেগম বলেন, ‘আমার মেয়েকে যারা নির্যাতন করেছে, তাদের ফাঁসি না হলে আমরা শান্তি পাবো না। লামিয়া ন্যায়বিচার না পাওয়ার কষ্টে আত্মহত্যা করেছে।’

লামিয়ার দাদা সোবহান হাওলাদার বলেন, ‘এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট নই। ওরা যেভাবে আমার নাতনিকে শেষ করেছে, ওদেরও তেমন বিচার হওয়া উচিত।’

মামলার পটভূমি: মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ মার্চ সন্ধ্যায় দুমকি উপজেলার পাঙ্গাসিয়া এলাকায় বাবার কবর জিয়ারত শেষে নানাবাড়ি ফেরার পথে কিশোরী লামিয়াকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়। পরদিন তিনি নিজেই দুমকি থানায় মামলা দায়ের করেন।

তদন্ত শেষে দুমকি থানার ওসি (তদন্ত) মো. রফিকুল ইসলাম গত ১ মে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। প্রাথমিকভাবে দুইজন আসামির নাম থাকলেও তদন্তে ইমরান মুন্সির নামও যুক্ত হয়। যেহেতু তিন আসামির বয়সই ১৮ বছরের নিচে, তাই শিশু আইনে অভিযোগ গঠন করে বিচার সম্পন্ন হয়।

তবে বিচার প্রক্রিয়া চলাকালীন ২৬ এপ্রিল রাজধানীর শেখেরটেকের একটি ভাড়া বাসা থেকে লামিয়ার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের দাবি, ন্যায়বিচার না পাওয়ার শঙ্কা ও মানসিক চাপে লামিয়া আত্মহত্যা করেন।

রায় ঘোষণার সময় তিন আসামিকে পুলিশের কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে আদালতে হাজির করা হয়। আদালতে উপস্থিত ছিলেন লামিয়ার পরিবারের সদস্যরা, আইনজীবীরা এবং স্থানীয় মানবাধিকারকর্মীরা। রায় ঘোষণার পর আদালত প্রাঙ্গণে কান্নায় ভেঙে পড়েন লামিয়ার স্বজনরা।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এডভোকেট আব্দুল্লাহ আল নোমান। আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট গাজী আল মামুন, অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রব ও অ্যাডভোকেট শামিম।

জানা গেছে, রায়ের পর লামিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে একাধিক মানববন্ধন ও স্মারকলিপি দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তারা উচ্চ আদালতে আপিলের মাধ্যমে আসামিদের মৃত্যুদণ্ড দাবি করবেন বলে জানিয়েছেন।

thebgbd.com/NA