দুই কোরিয়াকে পৃথককারী সুরক্ষিত স্থল সীমান্ত স্বেচ্ছায় অতিক্রম করার অভিযোগে রোববার উত্তর কোরিয়ার এক সেনাকে দক্ষিণ কোরিয়া আটক করেছে। সিউলের সামরিক বাহিনী এ কথা জানিয়েছে। সিউল থেকে এএফপি এ খবর জানায়।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা এএফপি’কে জানিয়েছেন, ওই সেনা ‘দক্ষিণে পালিয়ে যেতে’ চাইছিলেন। ১৯৫০-এর দশকে যুদ্ধের মাধ্যমে উপদ্বীপ বিভক্ত হওয়ার পর থেকে হাজার হাজার উত্তর কোরীয় নাগরিক দক্ষিণ কোরিয়ায় পালিয়ে গেছে। যাদের বেশিরভাগই প্রথমে স্থলপথে প্রতিবেশী চীনে চলে যায়। তারপর থাইল্যান্ডের মতো তৃতীয় দেশে প্রবেশ করে এবং অবশেষে দক্ষিণে পৌঁছেছে।
উপদ্বীপকে বিভক্তকারী স্থলসীমান্ত পেরিয়ে দেশত্যাগ তুলনামূলকভাবে বিরল। কারণ, অঞ্চলটি ঘন বনভূমিতে ঘেরা, স্থলমাইন দ্বারা পরিপূর্ণ এবং উভয় পক্ষের সেনারা তদারকি করে। এমডিএল-ডিমিলিটারাইজড জোনের মাঝখান দিয়ে দুই কোরিয়াকে পৃথককারী সীমান্ত এলাকা। যা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় এবং বিপজ্জনক ল্যান্ডমাইন যুক্ত স্থানগুলোর মধ্যে একটি।
দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফ এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ‘রোববার কেন্দ্রীয় ফ্রন্টে সামরিক সীমানা রেখা (এমডিএল) অতিক্রমকারী এক উত্তর কোরীয় সৈন্যকে আমাদের সেনাবাহিনী হেফাজতে নিয়েছে। সেনাবাহিনী এমডিএল-এর কাছে থাকা ব্যক্তিকে শনাক্ত করেছে। তাকে ট্র্যাক করে পর্যবেক্ষণ করেছে এবং হেফাজতে নেওয়ার জন্য একটি স্ট্যান্ডার্ড গাইডেন্স অপারেশন পরিচালনা করেছে’।
কোরিয়া ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল ইউনিফিকেশনের একজন সিনিয়র বিশ্লেষক হং মিন এএফপি’কে বলেছেন, ‘এই এলাকার সঙ্গে সেনার সম্ভবত পরিচিতি তাকে খনিযুক্ত ভূখণ্ডে চলাচল করতে সাহায্য করেছে। সর্বশেষ ক্রসিং পিয়ংইয়ং ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করবে না, কারণ সে দক্ষিণকে সীমান্ত এলাকায় তার সৈন্যদের গতিবিধি এবং কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য সরবরাহ করতে পারে’।
উত্তর কোরীয়রা সাধারণত দক্ষিণে পৌঁছালে তাদের সিউলের গোয়েন্দা সংস্থার কাছে স্ক্রিনিংয়ের জন্য হস্তান্তর করা হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, রোববারের সীমান্ত ক্রসিংয়ের বিস্তারিত তদন্ত করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনীর সহায়তায় ২০ ঘন্টার একটি সূক্ষ্ম অভিযানের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়ার একজন বেসামরিক নাগরিক স্থল সীমান্ত অতিক্রম করার কয়েক মাস পর এই ঘটনাটি ঘটে। গত বছরের আগস্টে একজন উত্তর কোরিয়ার সৈন্য এমডিএল-পেরিয়ে দক্ষিণে পালিয়ে যায়।
একীকরণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, ৩৪ হাজারেরও বেশি উত্তর কোরীয় বিচ্ছিন্ন দেশ থেকে দক্ষিণে পালিয়ে এসেছে। গত বছর, ২৩৬ জন উত্তর কোরিয়ান দক্ষিণে পৌঁছেছে। যার মধ্যে ৮৮ শতাংশই নারী।১৯৫০-৫৩ সালের কোরিয়ান যুদ্ধ শান্তি চুক্তিতে নয়, বরং একটি যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে শেষ হয় বলে প্রযুক্তিগতভাবে দুই কোরিয়া যুদ্ধে রয়েছে।
জুন মাসে দায়িত্ব গ্রহণকারী দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জায়ে মিয়ং তার পূর্বসূরী ইউন সুক ইয়োলের তুলনায় পিয়ংইয়ংয়ের প্রতি আরও কঠোর মনোভাব পোষণের অঙ্গীকার করেছেন। সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘে লি উত্তরের সঙ্গে উত্তেজনা শেষ করার অঙ্গীকার করেন এবং শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন না করার প্রতিশ্রুতি দেন।
সূত্র: এএফপি
এসজেড