হরমুজ প্রণালীর বিতর্কিত দ্বীপপুঞ্জ ও ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ‘হস্তক্ষেপমূলক’ বিবৃতির প্রতিবাদে ইইউ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর রাষ্ট্রদূতদের তলব করেছে ইরান। দেশটি হরমুজ প্রণালীর কাছে অবস্থিত গ্রেটার টুম্ব, লেসার টুম্ব ও আবু মুসা দ্বীপকে নিজেদের সার্বভৌম ভূখণ্ডের অংশ মনে করে।বুধবার স্থানীয় গণমাধ্যম সূত্রে এ তথ্য জানায় বার্তা সংস্থা এএফপি।
ইইউ’র রাষ্ট্রদূতদের নাম উল্লেখ না করে সরকারি বার্তা সংস্থা ‘আইএসএনএ’ জানায়, ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইইউভুক্ত রাষ্ট্রগুলোর রাষ্ট্রদূতদের তলব করে সোমবার কুয়েতে অনুষ্ঠিত ইইউ-জিসিসি (গালফ কোঅপারেশন কাউন্সিল) শীর্ষ সম্মেলনের যৌথ ঘোষণাপত্রের সমালোচনা করেন।
ইইউ-জিসিসি সম্মেলনের সমাপনী বিবৃতিতে ইরানকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের তিন দ্বীপের দখলদারিত্ব থেকে সরে আসতে আহ্বান জানানো হয়। উপমন্ত্রী মাজিদ তাখত-রাভাঞ্চি তেহরানের পক্ষ থেকে ইইউ’র প্রতি ‘কঠোর প্রতিবাদ’ জানান এবং বলেন, ব্লকটি আমিরাতের ‘ভিত্তিহীন দাবির’ প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।
ইইউ-জিসিসি ঘোষণায় ইরানকে জাতিসংঘের পরমাণু সংস্থা-আইএইএ’র সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা আবারও শুরু করতে আঞ্চলিক উত্তেজনা হ্রাসে পদক্ষেপ নিতে এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের বিস্তার নিয়ন্ত্রণের আহ্বান জানানো হয়।
তাখত-রাভাঞ্চি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে মন্তব্যকে ‘দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে স্পষ্ট হস্তক্ষেপ’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেছেন, দেশের ‘অভ্যন্তরীণ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা’ একটি অন্তর্নিহিত অধিকার এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার নিশ্চয়তা দেয়।
এরআগে ইইউ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কার্যক্রমের অভিযোগে দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। তারা অভিযোগ করেছে, তেহরান ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করছে। তবে ইরান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, মস্কোর সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্ব থাকা সত্ত্বেও তারা সংঘাতে কোনো পক্ষ নেয়নি।
তাখত-রাভাঞ্চি আরো অভিযোগ করেছেন, ইইউ ও ২০১৫ সালের ইরান পরমাণু চুক্তির তিন ইউরোপীয় স্বাক্ষরকারী দেশ-ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি-জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে এবং ‘কূটনীতিতে অচলাবস্থা সৃষ্টি করেছে’।
সূত্র: এএফপি
এসজেড