ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানের আগের দিন শুক্রবার (৩ অক্টোবর) দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার শিমুলিয়া ঘাটজুড়ে ছিল ইলিশ খাওয়ার উৎসব। প্রেমিক যুগল, দম্পতি ও বন্ধুবান্ধবরা দল বেঁধে এসেছিলেন রীতিমতো ইলিশ উৎসব করতে।
শিমুলিয়ার অভিজাত রেস্তোরাঁ ‘প্রজেক্ট হিলশা’ ও ‘লিফ লাউঞ্জ’-এ রাত আটটার মধ্যেই শেষ হয়ে যায় সব ইলিশ। এছাড়া শখের ইলিশ, কুটুমবাড়ি, নিরালা ও আশপাশের অন্যান্য রেস্তোরাঁ ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। শারদীয় দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় আশপাশের উপজেলা ও রাজধানী থেকে শত শত দর্শনার্থী পদ্মা সেতু এলাকা ও শিমুলিয়া ঘাটে ভিড় করেন।
পদ্মাপাড়ে বিশুদ্ধ বাতাস গ্রহণের পাশাপাশি পদ্মার ইলিশের স্বাদ নিতে দর্শনার্থীদের আনাগোনা ছিল সারাদিন। শুক্রবার সন্ধ্যায় সরেজমিনে দেখা যায়, ঘাটজুড়ে নানা বয়সি মানুষের ভিড়, পার্কিং ইয়ার্ড থেকে পদ্মাপাড় পর্যন্ত সরগরম পরিবেশ। দর্শনার্থীদের কেউ বসে গল্প করছেন, কেউ বা ইলিশ ভোজে মেতে উঠেছেন।
রাত বারোটার পর থেকে ইলিশ খাওয়া যাবে না ভেবে কেউ সময় নষ্ট করেননি। রাত পর্যন্ত রেস্তোরাঁগুলোতে চলেছে ইলিশ খাওয়ার ধুম।
ঢাকার যাত্রাবাড়ি থেকে পরিবার নিয়ে আসা ফল ব্যবসায়ী মনির হোসেন বলেন, ‘মাঝে মাঝে শিমুলিয়ার ইলিশের স্বাদ নিতে আসি। এবার এসেছি শেষবারের মতো ইলিশ খেতে, কারণ শনিবার থেকে ধরা ও বিক্রি বন্ধ হয়ে যাবে।’
রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী মুরাদ খান, রাসেল আলম রাজু ও আবদুল মালেক জানান, শুক্রবার রাতে তাদের মজুত করা সব ইলিশ বিক্রি শেষ হয়েছে। বিক্রি-বাট্টায় তারা সন্তুষ্ট।
মাওয়ায় লাগামহীন ইলিশ
নিষেধাজ্ঞার আগের দিন বৃহস্পতিবার মাওয়া ও শিমুলিয়া ঘাটের আড়ত ও বাজারগুলোতে আগুন দরে বিক্রি হয়েছে ইলিশ। বড় সাইজের ইলিশ প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ৩ হাজার ৫০০ টাকায়, আর ছোট সাইজের ইলিশ বিক্রি হয়েছে কেজিপ্রতি ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায়।
মৎস্য ব্যবসায়ীরা জানান, বুধবার বড় ইলিশের দাম ছিল ৩ হাজার টাকা এবং ছোট ইলিশ ৬০০-৭০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানের আগের দিন শুক্রবার উপজেলার প্রতিটি বাজারে ইলিশ কিনতে ভিড় করেন ক্রেতারা।
কনকসার বাজারে ইলিশ কিনতে আসা ক্রেতা নিয়াজ বলেন, ‘শনিবার থেকে ইলিশ আহরণে নিষেধাজ্ঞা আসবে। তখন টাকা থাকলেও ২২ দিন ইলিশ কেনা যাবে না। তাই দাম বেশি হলেও কিনে নিচ্ছি ছোট ইলিশ।’
মাওয়া মৎস্য আড়তের খুচরা বিক্রেতা যুবন দাস বলেন, ‘গত কয়েকদিন ইলিশ কম পাওয়া যাচ্ছে। ছোট ইলিশ বিক্রি হচ্ছে হালি প্রতি সাড়ে চারশ থেকে সাতশ টাকায়। আটশ থেকে নয়শ গ্রামের ইলিশ কেজিপ্রতি ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায়, আর এক কেজি ২০০ গ্রাম থেকে দেড় কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৫০০ টাকায়।’
তরুণ মাছ ব্যবসায়ী মামুনুর রশিদ বলেন, ‘এ মৌসুমে কমবেশি ইলিশ পাওয়া গেছে। তবে তাজা ইলিশের চাহিদা বেশি থাকায় দাম কমেনি। বড় সাইজের ইলিশের চাহিদা দেশজুড়ে। অনলাইন বিক্রেতারাও এখান থেকে মাছ নিয়ে যাচ্ছেন।’
thebgbd.com/NIT