ঢাকা | বঙ্গাব্দ

আইসিই অভিযানে গ্রেপ্তার মার্কিনির ক্ষতিপূরণ দাবি

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রাফি শোহেদকে মুখোশ ও ভারী অস্ত্রধারী বেশ কয়েকজন আইসিই এজেন্ট নৃশংসভাবে মারধর করছে।
  • অনলাইন ডেস্ক | ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
আইসিই অভিযানে গ্রেপ্তার মার্কিনির ক্ষতিপূরণ দাবি ৫০ মিলিয়ন ক্ষতিপূরণ চেয়েছেন রাফি শোহেদ।

যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে আইসিই’র অভিযানে গ্রেপ্তার এক প্রবীণ মার্কিন নাগরিক সরকারের কাছে ৫০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। অভিযানে মারাত্মক আহত রাফি শোহেদ বৃহস্পতিবার এ আবেদন করেন। লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।


রাফি শোহেদ লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি কার ওয়াশের দোকানের মালিক। তিনি ১৯৮০ সালের দিকে ইরান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যান। অন্যদিকে আইসিই হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন এবং কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট এজেন্সি। শোহেদের করা আইনি এই দাবিটি প্রকৃতপক্ষে মামলার আগের ধাপ। যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণত এ ধরনের দাবি প্রথমে ফেডারেল সরকারের কাছে প্রশাসনিকভাবে জমা দেওয়া হয়। পরে সেটি মামলায় রূপ নিতে পারে।


ঘটনার দিনের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মার্কিন নাগরিক রাফি শোহেদকে মুখোশ ও ভারী অস্ত্রধারী বেশ কয়েকজন আইসিই এজেন্ট নৃশংসভাবে মারধর করছে। পরে তাকে হেফাজতে নিয়ে যাওয়া হয়। 


শোহেদের অভিযোগ, সেখানে প্রায় ১২ ঘন্টা ধরে চিকিৎসা ছাড়াই তাকে আটকে রাখা হয়। তিনি সাংবাদিকদের আরও বলেন, তারা আমার সঙ্গে যেভাবে আচরণ করেছে, যেভাবে হামলা চালিয়েছে, আমি শুধু মিনতি করে বলেছিলাম, ‘আমার হৃদরোগের সমস্যা আছে। বাইরে কী ঘটছে তা জানতে লোকদের সঙ্গে কথা বলতে বের হয়েছিলাম। তারা আমাকে কিছুই বলেনি। শুধু বলল, ‘তুমি আইসির সঙ্গে ঝামেলা করতে পারবে না।’


এ মাসের শুরুতে আইসিই-এর অভিযানের সময় শোহেদের দোকানে ওই ঘটনা ঘটে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর কর্মসূচির অংশ হিসেবে এটি পরিচালনা করা হচ্ছে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে লাখ লাখ অভিবাসিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত করার ঘোষণা দেন তিনি প্রেসিডেন্ট। তবে অভিযানগুলো ঘিরে বিতর্ক রয়েছে। বিশেষ করে লস অ্যাঞ্জেলেসে। কারণ রাজ্যটিতে বহু জাতিগোষ্ঠীর বসবাস। তবে, অভিযানে কেবল স্প্যানিশভাষী এবং কার ওয়াশের মত প্রতিষ্ঠানগুলোকে টার্গেট করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।


ভিডিওতে দেখা যায়, তিন মুখোশধারী ব্যক্তি শোহেদকে টেনেহিঁচড়ে মাটিতে ফেলে দিয়েছে। পরে তাদের মধ্যে একজন ভুক্তভোগীর ঘাড়ে হাঁটু দিয়ে চেপে ধরে। ৭৯ বছর বয়সী প্রবীণ জানান, তিনি তখন এজেন্টদের বলেন, ‘শ্বাস নিতে পারছি না, আমি শ্বাস নিতে পারছি না।’ 


শোহেদের আইনজীবীরা বলেছেন, অভিযানের সময় ‘সম্প্রতি হার্ট সার্জারি’ করেছেন জানালেও তার ক্লায়েন্টের অনুরোধ উপেক্ষা করা হয়েছে। আবেদনে আরও বলা হয়েছে, ‘তাকে প্রায় ১২ ঘন্টা চিকিৎসা সেবা ছাড়াই আটকে রাখা হয়েছিল। তিনি মার্কিন নাগরিক এজেন্টরা তা জানার পরও তাকে আটক রাখা হয়।’ তবে পরে ট্রাম্প সমর্থক শোহেদকে কোনও অভিযোগ ছাড়াই মুক্তি দেওয়া হয়। আইনজীবীরা জানান, মুক্তির পর ভাঙা পাঁজর, কনুই ও মস্তিষ্কের গুরুতর আঘাতের জন্য হাসপাতালে চিকিৎসা নেন শোহেদ।


এদিকে, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের এক মুখপাত্র এএফপিকে জানান, ৯ সেপ্টেম্বরের ওই অভিযানে মার্কিন অভিবাসন আইন ভঙ্গের দায়ে ‘গুয়েতেমালা ও মেক্সিকো থেকে আসা পাঁচ অবৈধ অভিবাসীকেও গ্রেপ্তার করা হয়। এর মধ্যে একজনকে ২০১৫ সালের পর অন্তত দু’বার যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে বলা হয়। ভ্যালি কার ওয়াশের মালিক (রাফি শোহেদ) মার্কিন নাগরিক হলেও অভিযানে বাধা দেন। একই সঙ্গে এক ফেডারেল অফিসারকে আক্রমণ এবং তার কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হন।


যদিও ভুক্তভোগী প্রবীণের আইনজীবী জিম ডেসিমোনের দাবি, সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্ট দেখা গেছে, তার ক্লায়েন্ট অভিযানে বাধা দেননি, সহযোগিতা করছেন।


সূত্র: এএফপি


এসজেড