ঢাকা | বঙ্গাব্দ

জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন নেতানিয়াহু

নেতানিয়াহু কেবল হামাস পরিচালিত ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের ধারণারই বিরোধী নন বরং ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের মৌলিক ধারণারও বিরোধী।
  • অনলাইন ডেস্ক | ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন নেতানিয়াহু বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু

শুক্রবার জাতিসংঘে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর একটি ভাষণ দেওয়ার কথা। গাজা নিয়ে একটি চুক্তি করতে চাওয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরল চাপের মুখোমুখি হচ্ছেন তিনি। গাজায় দুই বছরের বিরামহীন আক্রমণের প্রতিবাদে ফ্রান্স, ব্রিটেনসহ আরও কয়েকটি পশ্চিমা শক্তি ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়ার কয়েকদিন পর নেতানিয়াহু জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। জাতিসংঘ থেকে এএফপি এই খবর জানিয়েছে।


ইসরায়েলি ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন ধরেই ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে প্রত্যাখ্যান করে আসছেন এবং তার অতি-ডানপন্থী মিত্ররা স্বাধীন ফিলিস্তিনের বাস্তব সম্ভাবনাকে ধ্বংস করার জন্য পশ্চিম তীরকে সংযুক্ত করার কথা ভাবছে। কিন্তু নেতানিয়াহুর একজন ঘনিষ্ঠ মিত্র ট্রাম্প গাজায় একটি শান্তি পরিকল্পনা পেশ করার সময় সংযুক্তির বিরুদ্ধে সতর্ক করে দিয়েছেন। সেখানে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী হামাসের নিরস্ত্রীকরণ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। 


হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেছেন, ‘ইসরায়েলকে পশ্চিম তীর দখল করতে দেব না। না, তা হতে দেব না। এটা হবে না।’ বৃহস্পতিবার ট্রাম্প নেতানিয়াহুর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। তিনি সোমবার ওয়াশিংটনে যাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।


যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে, যার মধ্যে অনাহারকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করাও অন্তর্ভুক্ত, নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি থাকায় ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্কে যাওয়ার এক অস্বাভাবিক পথ বেছে নেন। যার মধ্যে জিব্রাল্টারের সংকীর্ণ প্রণালীর ওপর দিয়ে বিমানে ভ্রমণও অন্তর্ভুক্ত ছিল। ট্রাম্পের রিয়েল এস্টেট বন্ধু এবং বিশ্ব আলোচক স্টিভ উইটকফকে ম্যানহাটনে নেতানিয়াহু যেখানে অবস্থান করছেন সেই কড়া পাহারায় ঘেরা বিলাসবহুল হোটেলে প্রবেশ করতে দেখা গেছে।


বিক্ষোভকারীদের মধ্যে একজন তরুণী আন্দ্রেয়া মিরেজ বলেছেন, ‘যুদ্ধাপরাধীরা কোনো মানসিক শান্তির যোগ্য নয়। তাদের কোনো ঘুমের যোগ্য নয়’। এই সময় প্রায় ২০ জন বিক্ষোভকারী এবং একই সংখ্যক নেতানিয়াহুর সমর্থককে বাইরে দেখা গেছে। নেতানিয়াহুর বক্তৃতার সময়ের সঙ্গে মিল রেখে শুক্রবার টাইমস স্কয়ার থেকে নেতানিয়াহুর গ্রেপ্তারের দাবিতে একটি মিছিলের পরিকল্পনা করেছেন মানবাধিকার কর্মীরা।


নেতানিয়াহু পশ্চিমা সমালোচকদের এবং জাতিসংঘের সমালোচনা করেছেন। পশ্চিমা এবং জাতিসংঘকে তিনি পক্ষপাতদুষ্ট বলে অভিহিত করেছেন। তিনি ট্রাম্পকে অমান্য করতেও ভয় পাননি। মার্কিন কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও ইরান, কাতার এবং সিরিয়ায় সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের চেষ্টা করছেন।


আন্তর্জাতিক সংকট গ্রুপের জন্য জাতিসংঘের অনুসরণকারী রিচার্ড গোয়ান বলেছেন, ‘আমি মনে করি নেতানিয়াহুর সুর চরমভাবে কঠোর হবে। তিনি গাজায় তার অভিযানের পক্ষে বা ব্যাখ্যা দিতে জাতিসংঘে আসছেন না। তিনি ইসরায়েলকে সমর্থন করতে ব্যর্থতার জন্য জাতিসংঘের সমালোচনা করতে আসছেন বিশেষ করে এই সপ্তাহের শুরুতে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়া দেশগুলোর নিন্দা জানাতে আসছেন’।


গোয়ান বলেছেন,  ‘এটা স্পষ্ট, নেতানিয়াহু কেবল হামাস পরিচালিত ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের ধারণারই বিরোধী নন বরং ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের মৌলিক ধারণারও বিরোধী’।


সূত্র: এএফপি


এসজেড