ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ভারতে ‘মস্তিষ্ক খেকো’ অ্যামিবার সংক্রমণ

অ্যামিবার সংক্রমণ ‘অত্যন্ত বিরল’, তবে প্রায় সব ক্ষেত্রেই প্রাণঘাতি। এটি গরম হ্রদ এবং নদীর পানিতে বাস করে।
  • অনলাইন ডেস্ক | ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
ভারতে ‘মস্তিষ্ক খেকো’ অ্যামিবার সংক্রমণ অ্যামিবার সংক্রমণ

ভারতের কেরালা রাজ্যে গত বছরের তুলনায় এই বছর ‘মস্তিষ্ক খেকো’ অ্যামিবার সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা দ্বিগুণ হওয়ায় স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নয়াদিল্লি থেকে এএফপি এ খবর জানায়।


নেগেলেরিয়া ফাউলেরি নামে পানিবাহিত এই বিরল অ্যামিবায় সংক্রমিত ব্যক্তির সংখ্যা এখনো খুব বেশি নয়। সংক্রমণের বিস্তার রোধে গঠিত সরকারের একটি টাস্কফোর্সের সঙ্গে সম্পৃক্ত চিকিৎসক আলতাফ আলী বলেন, কর্মকর্তারা রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপকভাবে পরীক্ষা চালাচ্ছেন, যাতে রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা করা যায়।


কর্মকর্তারা জানান, নেগেলেরিয়া ফাউলেরি অ্যামিবায় আক্রান্ত হয়ে এই বছর কেরালায় ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। সংক্রমিত হয়েছেন ৭২ জন। এর মধ্যে সেপ্টেম্বরেই ৯ জনের মৃত্যু এবং ২৪ জন সংক্রমিত হয়েছেন। গত বছর, ৩৬ জন সংক্রমিত হয়ে ৯ জন মারা যান।


যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) জানায়, এই অ্যামিবাকে ‘মস্তিষ্ক খেকো অ্যামিবা’ বলা হয়। কারণ এটি মস্তিষ্কে সংক্রমণ ঘটিয়ে মস্তিষ্কের টিস্যু ধ্বংস করে ফেলে। অ্যামিবাটি মস্তিষ্কে পৌঁছে সংক্রমণ সৃষ্টি করতে পারলে আক্রান্তদের ৯৫ শতাংশেরও বেশি মৃত্যু হয়।


সিডিসি জানায়, অ্যামিবার সংক্রমণ ‘অত্যন্ত বিরল’, তবে প্রায় সব ক্ষেত্রেই প্রাণঘাতি। এটি গরম হ্রদ এবং নদীর পানিতে বাস করে এবং দূষিত পানি নাকে প্রবেশের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়। এটি এক ব্যক্তির থেকে অন্য ব্যক্তির মধ্যে ছড়ায় না।


বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানায়, এই রোগের উপসর্গের মধ্যে রয়েছে মাথাব্যথা, জ্বর এবং বমি, যা দ্রুত খিঁচুনি, মানসিক অবস্থার পরিবর্তন, ভ্রম এবং কোমা-তে রূপান্তরিত হয়। আলতাফ আলী বলেন, ‘এই বছর নতুন করে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে। আগে তা নির্দিষ্ট এলাকায় সীমাবদ্ধ ছিল। এটি উদ্বেগের বিষয়।’


১৯৬২ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী প্রায় পাঁচশ’ জন এই অ্যামিবায় সংক্রমিত হন, যাদের বেশিরভাগই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, পাকিস্তান এবং অস্ট্রেলিয়ায় ঘটেছে।


সূত্র: এএফপি


এসজেড