বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, বিজ্ঞানী ও গবেষকদের জন্য বিশেষ ভাতা সুপারিশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় পে কমিশন। নতুন বেতন কাঠামোয় প্রণোদনা হিসেবে এ সুবিধা অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) কমিশনের দ্বিতীয় সভায় সর্বসম্মতভাবে এ সিদ্ধান্ত হয় বলে টিবিএসকে জানান কমিশনের একজন সদস্য। তিনি জানান, সামরিক ও বেসামরিক খাতের অন্যরা এ সুবিধা পাবেন না।
দক্ষতা ধরে রাখতে বিশেষ ভাতা
কমিশনের ওই সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘‘ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, বিজ্ঞানী ও গবেষক পেশায় মেধাবীদের আগ্রহ কমে গেছে। অনেকে চিকিৎসা ও প্রকৌশল বিদ্যা পড়েও এসব পেশার বদলে প্রশাসনিক ক্যাডারসহ অন্যত্র যাচ্ছেন। এতে দক্ষতার ঘাটতি তৈরি হচ্ছে এবং উদ্ভাবনেও বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়ছে।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘সশস্ত্র বাহিনী ও বিচারকদের বেতন কাঠামো আলাদা হলেও তাদের ভাতা রয়েছে। সে বিবেচনায় চিকিৎসা, প্রকৌশল, গবেষণা ও উদ্ভাবনী খাতে মেধাবীদের টানতে বিশেষ ইনসেনটিভ হিসেবে এই ভাতা সুপারিশ করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক যারা গবেষণায় সম্পৃক্ত, তারাও সুবিধা পাবেন।’’
পে কমিশনের ম্যান্ডেট
কমিশন জানায়, সরকারি ও বেসরকারি খাতের বেতন-ভাতা ও কর আরোপে বৈষম্য দূর করার চেষ্টা থাকবে প্রতিবেদনে। সরকারি চাকরিজীবীদের বহু ভাতা করমুক্ত থাকলেও বেসরকারি খাতে কর আরোপিত হয়। এই বৈষম্য নিরসনে সরকারের কাছে সুপারিশ করবে কমিশন।
নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণে বেসরকারি খাতের মতামতও নেওয়া হবে। এজন্য জরিপ প্রশ্নমালা তৈরি করে মতামত সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময়সূচি
কমিশনের সদস্য জানান, ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনা থাকলেও তা সম্ভব নাও হতে পারে। তবে ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের আগেই প্রতিবেদন দেওয়া হবে। এই প্রতিবেদন ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের কাছেই যাবে।
উল্লেখ্য, গত ২৪ জুলাই সরকার জাতীয় পে কমিশন গঠন করে। সাবেক অর্থসচিব ও পল্লী কর্ম–সহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে কমিশন কাজ করছে।
সামষ্টিক অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ
কমিশনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানান, নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নে সামষ্টিক অর্থনৈতিক তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এজন্য ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রস্তুতের দায়িত্ব অর্থ মন্ত্রণালয়কে দেওয়া হয়েছে, যা সেপ্টেম্বরের মধ্যেই কমিশনের হাতে আসবে।
এছাড়া সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানের বর্তমান জনবল, বেতন-ভাতা, পেনশন ও রাজস্ব আহরণের তথ্য সংগ্রহেও কমিশন কাজ করছে।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বাজেট বরাদ্দ
বর্তমানে ২০১৫ সালের পে স্কেল অনুযায়ী প্রায় ১৫ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী বেতন-ভাতা পান। সামরিক বাহিনী, ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক মিলিয়ে এ সংখ্যা প্রায় ২৪ লাখ।
২০২৪ সালের নভেম্বরে মহার্ঘ ভাতা চালুর আলোচনা হলেও সমালোচনার মুখে সরকার পিছিয়ে যায়। পরবর্তীতে চলতি অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ১০ শতাংশ বিশেষ সুবিধা ঘোষণা করে অর্থ মন্ত্রণালয়।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতায় বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৮৪ হাজার ৬৮৪ কোটি টাকা, যা আগের বছরের (৮২ হাজার ৯৭৭ কোটি) তুলনায় বেশি।
thebgbd.com/NIT