ঢাকা | বঙ্গাব্দ

দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী, আখেরাত চিরন্তন: মূল্য বুঝে গড়ে তুলতে হবে প্রস্তুতি

ইবাদত, সৎকর্ম, দান-খয়রাত ও মানুষের কল্যাণে কাজ করা মানেই আখেরাতের মূলধন সঞ্চয় করা।
  • নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী, আখেরাত চিরন্তন: মূল্য বুঝে গড়ে তুলতে হবে প্রস্তুতি ফাইল ছবি


মানুষের চোখে দুনিয়ার জীবনই যেন সবকিছু। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত মানুষ ছুটে চলে সুখ-সমৃদ্ধি, ভোগ-বিলাস ও সাফল্যের পেছনে। অথচ কোরআন ও হাদিসের আলোকে স্পষ্ট যে দুনিয়ার জীবন আসলে ক্ষণস্থায়ী এক পরীক্ষার ময়দান, আর আখেরাতই হলো স্থায়ী আবাস। তাই দুনিয়ার আসল মূল্য বুঝতে না পারলে আখেরাতের বাস্তবতা অস্বীকার করা হয়, যা একজন মুমিনের জন্য বড় ক্ষতির কারণ।


আল্লাহ তায়ালা কোরআনে বলেছেন, “এই দুনিয়ার জীবন খেলাধুলা ও আনন্দ ছাড়া কিছুই নয়। আর পরকালই হলো প্রকৃত জীবন—যদি তারা জানত” (সূরা আনকাবুত: ৬৪)। এ আয়াত মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেয়, যত বিলাসিতা ও ভোগ-বিলাসই হোক, দুনিয়ার জীবন শেষ হয়ে যাবে। কবরের পরেই শুরু হবে আখেরাতের বাস্তবতা, যেখানে কারও কর্মই হবে তার ভাগ্য নির্ধারণের মূল মাপকাঠি।


রাসুলুল্লাহ (সা.) দুনিয়ার জীবনকে তুলনা করেছেন একজন পথিকের সঙ্গে, যে গাছের ছায়ায় কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে আবার যাত্রা শুরু করে। এর মানে হলো—দুনিয়ার জীবন সাময়িক বিশ্রাম, আর প্রকৃত গন্তব্য আখেরাত। এজন্য তিনি মুমিনদের সতর্ক করেছেন যেন দুনিয়ার চাকচিক্যে মগ্ন হয়ে আসল উদ্দেশ্য ভুলে না যায়।


ধর্মীয় আলেমরা বলেন, দুনিয়ার জীবনের সঠিক মূল্য হলো এটিকে আখেরাতের প্রস্তুতির ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করা। এখানে ইবাদত, সৎকর্ম, দান-খয়রাত ও মানুষের কল্যাণে কাজ করা মানেই আখেরাতের মূলধন সঞ্চয় করা। অন্যদিকে পাপাচার, অন্যায়, ভোগ-বিলাসে মগ্নতা ও আল্লাহর স্মৃতি ভুলে যাওয়া মানে হলো আখেরাতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া।


আজকের বস্তুবাদী বিশ্বে মানুষ ক্রমেই আখেরাতের বাস্তবতা ভুলে যাচ্ছে। অথচ মৃত্যু প্রতিদিন আমাদের চোখে আনে অনিবার্য সত্যের বার্তা। দুনিয়ার সবকিছু শেষ হয়ে যাবে, কিন্তু আখেরাতের জীবন কখনো শেষ হবে না। এজন্য বুদ্ধিমান সেই, যে দুনিয়ার জীবনকে ব্যবহার করবে আখেরাতের সফলতার প্রস্তুতিতে।


https://thebgbd.com/BYB