ঢাকা | বঙ্গাব্দ

সীমানা পেরিয়ে গাছের মালিকানা, ইসলামে করণীয় কী?

সার্বিকভাবে বলা যায়, অন্যের সীমানায় গাছ ঢুকে পড়লেও তার আসল মালিক রোপণকারীই থাকবেন।
  • নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
সীমানা পেরিয়ে গাছের মালিকানা, ইসলামে করণীয় কী? ফাইল ছবি



গ্রামীণ কিংবা শহুরে জীবনে প্রায়ই দেখা যায়, কারো রোপণ করা গাছ বড় হয়ে অন্যের সীমানায় বা জমিতে ঝুঁকে পড়ে। তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে—গাছটির মালিকানা কার? যিনি রোপণ করেছেন, নাকি যার জমিতে শাখা-প্রশাখা বা শেকড় বিস্তার করেছে? ইসলামে এই বিষয়ে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে।


ফিকহবিদ আলেমদের মতে, যে গাছ রোপণ করেছে, মূলত গাছের মালিক তিনিই। কারণ গাছ রোপণের শ্রম ও মালিকানার সূচনা তাঁর থেকেই হয়েছে। গাছটি যদি বেড়ে ওঠার সময় শাখা-প্রশাখা বা শেকড় পাশের জমিতে প্রবেশ করে, তবুও তার মালিকানা পরিবর্তন হয় না। তবে ইসলামের ন্যায়নীতির আলোকে এখানে প্রতিবেশীরও কিছু অধিকার রয়েছে।


ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী, যদি গাছের শেকড় বা ডালপালা অন্যের জমিতে ক্ষতি করতে শুরু করে, তবে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিবেশী মালিককে ডেকে তা সরিয়ে নেওয়ার বা ছাঁটাই করার দাবি জানাতে পারেন। এমনকি গাছ কাটার প্রয়োজন হলে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। ইসলামে কারো ক্ষতি করে নিজের লাভ নেওয়া কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। তাই এ ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার ও পারস্পরিক সমঝোতাই প্রধান সমাধান।


হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “কোনো মুসলিমের জন্য বৈধ নয় যে, সে তার প্রতিবেশীকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।” এই হাদিস থেকে আলেমরা মত দিয়েছেন, গাছ রোপণকারীর মালিকানা অটুট থাকবে, তবে তিনি যেন নিশ্চিত করেন গাছের কারণে প্রতিবেশীর জমি বা জীবনে যেন কোনো ক্ষতি না হয়।


সার্বিকভাবে বলা যায়, অন্যের সীমানায় গাছ ঢুকে পড়লেও তার আসল মালিক রোপণকারীই থাকবেন। তবে প্রতিবেশীর অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা দেখানো এবং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করাই ইসলামের শিক্ষা। এভাবেই ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে ন্যায়, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক আস্থা অটুট রাখা সম্ভব।


https://thebgbd.com/BYB