মানুষের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য তার ভেতরের ঈমান ও নৈতিকতার প্রতিফলন। সুন্দর চরিত্র ও ভদ্র ভাষা একজন মুমিনের পরিচয় বহন করে, আর কটু কথা, গালমন্দ ও অশ্লীল ভাষা ব্যবহার প্রকাশ করে তার অন্তরের দুর্বলতা। ইসলামে গালমন্দকে শুধু একটি নিন্দনীয় কাজই বলা হয়নি, বরং এটিকে ঈমানবিরোধী কুপ্রবৃত্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “মুমিন গালমন্দকারী, অভিশাপদাতা, অশ্লীলভাষী বা কদর্য আচরণকারী হতে পারে না।” এ হাদিস থেকে স্পষ্ট যে, প্রকৃত ঈমানের দাবি হলো ভাষায় পরিশুদ্ধতা ও আচার-আচরণে শালীনতা বজায় রাখা। গালমন্দ শুধু অন্যের হৃদয়ে কষ্ট দেয় না, বরং নিজের আমলনামাকেও কলুষিত করে।
ধর্মীয় আলেমদের মতে, গালমন্দ শয়তানের অন্যতম অস্ত্র। মানুষ যখন ক্রোধে বা হিংসায় আচ্ছন্ন হয়, তখন তার জিহ্বা নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে। এ সময় সে এমন সব শব্দ ব্যবহার করে যা তাকে আল্লাহর রহমত থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। ফলে ধীরে ধীরে তার অন্তরে ঈমানের জ্যোতি ম্লান হয়ে যায়।
গালমন্দের প্রভাব সমাজেও ভয়াবহ। পারিবারিক সম্পর্ক নষ্ট হয়, বন্ধুদের মধ্যে ভাঙন দেখা দেয়, সমাজে বিরোধ ও হানাহানি বাড়ে। অথচ ইসলামের শিক্ষা হলো ভ্রাতৃত্ব, শান্তি ও পারস্পরিক ভালোবাসা। কুরআনে বলা হয়েছে, ‘তোমরা একে অপরকে মন্দ নামে ডেকো না। ঈমান আনার পরেও যে মন্দ নামে ডাকে, তারা সত্যিই অন্যায়কারী’ (সূরা হুজুরাত: ১১)।
সুস্থ সমাজ গঠনে তাই প্রত্যেক মুসলিমের উচিত নিজের জিহ্বা নিয়ন্ত্রণ করা এবং গালমন্দের মতো কুপ্রবৃত্তি থেকে দূরে থাকা। কারণ একজন মুমিনের আসল পরিচয় হলো তার উত্তম আচার-আচরণ ও ভদ্র ভাষা। আল্লাহর নিকট মর্যাদা লাভ করতে চাইলে গালমন্দের বদলে চাই দোয়া, ক্ষমাশীলতা ও মিষ্টি ভাষা। এভাবেই মানুষ প্রকৃত ঈমানদার হয়ে উঠতে পারে এবং সমাজে শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দিতে পারে।
https://thebgbd.com/BYB