ট্রাম্প প্রশাসন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে কর্তৃত্ববাদী সরকার হিসেবে ধ্বংস করছেন। সরকারগুলো স্বাধীন চিন্তাভাবনাকে বাতিল করতে চাইছে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি গতকাল বুধবার একথা বলেছেন। আমস্টারডাম থেকে এএফপি এই খবর জানিয়েছে।
ট্রাম্প বিশ্বের মর্যাদাপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়টির সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়েছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, আইভি লিগ স্কুলগুলো উদারপন্থী, রক্ষণশীল-বিরোধী পক্ষপাত এবং ইহুদি-বিদ্বেষের অযোগ্য ঘাঁটি বিশেষ করে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রচারণার বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে। ট্রাম্প হার্ভার্ডে ২.৬ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি তহবিল কমাতে চেয়েছেন এবং বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তি বন্ধ করতে পদক্ষেপ নিয়েছেন। যা বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট শিক্ষার্থীর এক-চতুর্থাংশ।
ক্লাউডিন গে আমস্টারডামের নেদারল্যান্ডস ইনস্টিটিউট ফর অ্যাডভান্সড স্টাডি ইন দ্য হিউম্যানিটিস অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেসকে বলেছেন, ‘সত্যি কথা হলো আমাদের সরকার, মার্কিন সরকার, উচ্চ শিক্ষা এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আক্রমণ করছে। এখানে এজেন্ডা হল জ্ঞানের প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করা কারণ, তারা স্বাধীন চিন্তাভাবনা এবং তথ্যের কেন্দ্র। এটাই গল্প। কিছুই এটিকে ন্যায্যতা দেয় না। এটি কিছুই ব্যাখ্যা করে না। কর্তৃপক্ষ স্বাধীন চিন্তাভাবনা এবং তথ্য কেন্দ্র পছন্দ করে না।’
৩৬৮ বছরের ইতিহাসে হার্ভার্ডের নেতৃত্বদানকারী প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ মহিলা গে গাজা যুদ্ধ নিয়ে বিক্ষোভের পর ক্যাম্পাসে ইহুদি-বিদ্বেষের অভিযোগে বিতর্কের মধ্যে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে পদত্যাগ করেন। ক্যাপিটল হিলের শুনানিতে তীব্র সমালোচনার পর তিনি পদত্যাগ করেন।
রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা এলিস স্টেফানিক ছাত্রদের নতুন ইন্তিফাদা আহ্বানের তুলনা করেছেন - বিদ্রোহের জন্য একটি আরবি শব্দ যা ১৯৮৭ সালে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রথম ফিলিস্তিনি বিদ্রোহের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। ইসরায়েলে এবং বিশ্বব্যাপী ইহুদি জনগণের বিরুদ্ধে ‘গণহত্যা’কে উস্কে দেয়।
স্টেফানিক যখন গে-কে প্রশ্ন করেছেন, এই ধরনের আহ্বান হার্ভার্ডের আচরণবিধি লঙ্ঘন করবে কি-না, তখন গে উত্তর দেন, ‘আমরা আপত্তিকর, ঘৃণ্য মতামতেরও স্বাধীন মত প্রকাশের প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করি।’ শুনানির সময় তিনি বলেছেন, ‘যখন বক্তৃতা এমন আচরণে রূপান্তরিত হয় যা আমাদের নীতিমালা লঙ্ঘন করে। যার মধ্যে রয়েছে গুন্ডামি, হয়রানি বা ভয় দেখানোর বিরুদ্ধে নীতিমালা, তখন আমরা ব্যবস্থা নিই।’
হার্ভার্ডের প্রাক্তন ছাত্র এবং বহু মিলিয়ন ডলারের দাতা বিল অ্যাকম্যান দাবি করেছেন, উচ্চ-প্রোফাইল বিতর্কের ফলে ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটি কোটি ডলারের অনুদান বাতিল, স্থগিত এবং প্রত্যাহার করা হয়েছে।’
তিনি তার একাডেমিক কাজে পাণ্ডিত্যপূর্ণ সূত্রগুলোকে ভুলভাবে উপস্থাপন করেছেন- গে’র বিরুদ্ধে ওঠা এমন অভিযোগ তার ওপর আরো চাপ বাড়িয়ে দেয়। ক্ষমা চাওয়ার পর অবশেষে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে তিনি পদত্যাগ করেন।
সূত্র: এএফপি
এসজেড