চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) কর্তৃপক্ষ সব বিভাগের পরীক্ষা স্থগিত করেছে। তবে ক্লাস যথারীতি চলবে। শনিবার (৩০ আগস্ট) দিবাগত রাতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
রোববার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিন জানান, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি দেখে পরবর্তী তারিখে পরীক্ষার বিষয়ে জানানো হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেন নিয়মিত সূচি অনুযায়ী চলবে।
ঘটনার সূত্রপাত
শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের এক ছাত্রীকে শাহাবুদ্দীন ভবনের দারোয়ান মারধর করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ ঘটনার প্রতিবাদে হল থেকে বেরিয়ে আসা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয় জোবরাবাসীদের সংঘর্ষ হয়। রাতভর চলা এ সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
ভুক্তভোগী ছাত্রী জানান, রাত ১১টা ২০ মিনিটে বাসায় ফেরার সময় দারোয়ান দরজা খুলতে দেরি করেন এবং পরে তার ওপর চড়াও হয়ে শারীরিকভাবে আঘাত করেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ
সংঘর্ষে আহত কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, স্থানীয়রা লাঠি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। তারা দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাকর্মীরা ঘটনাস্থলে থাকলেও কোনো সহায়তা করেননি। শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের উদাসীনতাকে দায়ী করে বলেন, বারবার এমন ঘটনা ঘটলেও স্থানীয়দের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
চিকিৎসা সংকট
বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র মেডিকেল অফিসার ডা. মোহাম্মদ টিপু সুলতান জানান, রাত দেড়টার পর থেকে প্রায় ৬০ জন আহত শিক্ষার্থী চিকিৎসার জন্য আসেন। পর্যাপ্ত লোকবল ও সরঞ্জাম না থাকায় সংকট দেখা দেয়, এমনকি অক্সিজেনও ফুরিয়ে যায়। গুরুতর আহত কয়েকজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
thebgbd.com/NIT