ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ভিসা নিষেধাজ্ঞায় ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ

পদক্ষেপটি ট্রাম্পের প্রশাসনকে গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত ইসরায়েল সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক আরো জোরদার করবে।
  • অনলাইন ডেস্ক | ৩০ আগস্ট, ২০২৫
ভিসা নিষেধাজ্ঞায় ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্ট্র শুক্রবার জানিয়েছে, তারা আগামী মাসে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগদানের জন্য ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ভিসা বাতিল  করবে। ফলে সেপ্টেম্বর মাসে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে তার যোগদান অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এবারের অধিবেশনে ফ্রান্স, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়াসহ কিছু দেশ ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। তার আগেই ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্টের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞার ব্যবস্থা করেছে মার্কিনিরা। ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। 


শুক্রবার (২৯ আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক ঘোষণায় জানিয়েছে মাহমুদ আব্বাসের ফিলিস্তিন অথরিটি (পিএ) এবং ফিলিস্তিন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের (পিএলও) কর্মকর্তাদের ‘ভিসা প্রত্যাখ্যান ও বাতিল’ করতে যাচ্ছে তারা। তবে জাতিসংঘের সদর দপ্তর চুক্তি অনুযায়ী ভিসার ক্ষেত্রে ফিলিস্তিনি মিশন যে ছাড় পেতো সেটি পাবেন তারা।


পদক্ষেপটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনকে গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত ইসরায়েল সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক আরো জোরদার করবে। ইসরায়েল ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাকে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। ইসরায়েল পশ্চিম তীর-ভিত্তিক ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে প্রতিদ্বন্দ্বী হামাসের সঙ্গে একত্রিত করার চেষ্টা করেছে।


সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের ফলে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস ও দেশটির প্রতিনিধিরা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে যোগ নাও দিতে পারেন। সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, তারা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি মেমো পেয়েছে। এতে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসসহ অন্যান্যদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগের কথা বলা হয়েছে।


ভিসা নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ-মুখপাত্র  টমি পিগট বলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসন ঘোষণা করছে, আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের আগে মার্কিন আইন অনুযায়ী ফিলিস্তিন লিবারেশন অর্গানাইজেশন এবং ফিলিস্তিনি অথরিটির সদস্যদের ভিসা বাতিল এবং প্রত্যাখ্যান করা হবে। শান্তি আলোচনায় গুরুতর অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করার আগে, তাদের অবশ্যই সন্ত্রাসবাদকে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করতে হবে এবং একটি কাল্পনিক (ফিলিস্তিন) রাষ্ট্রের একতরফা স্বীকৃতি খোঁজা বন্ধ করতে হবে, যা ফলপ্রসূ নয়।


পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও’র বরাত দিয়ে পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আসন্ন জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের আগে প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন (পিএলও) ও প্যালেস্টাইন কর্তৃপক্ষের (পিএ) সদস্যদের ভিসা প্রত্যাখ্যান ও বাতিল’ করতে যাচ্ছে তারা। পররাষ্ট্র দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘পিএলও ও পিএ’র দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের প্রতিশ্রুতি পালন না করা এবং শান্তির সম্ভাবনা ক্ষুণ্ন করায়, জবাবদিহি করানোর অংশ হিসেবে এটা করা হয়েছে।’ এ পদক্ষেপের কারণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তাজনিত স্বার্থের কথাও বলা হয় বিবৃতিতে।


পররাষ্ট্র দপ্তর ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ও আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার অভিযোগ এনে ‘আইন লঙ্ঘনের’ অভিযোগ এনেছে। এটি ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে ‘একটি অনুমানযোগ্য ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের একতরফা স্বীকৃতি নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা’ ত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছে। ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, কয়েক দশকের যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন আলোচনায়ও ইসরায়েলি দখলদারিত্বের অবসান হয়নি বা স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অগ্রগতি হয়নি।


ইসরাইলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার, এক্স-এ লিখেছেন, ‘এই সাহসী পদক্ষেপের জন্য এবং আবারও ইসরায়েলের পাশে দাঁড়ানোর জন্য’ ট্রাম্প প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।


এদিকে, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তাদের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে। তারা যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপকে ‘আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সদর দপ্তর চুক্তির স্পষ্ট পরিপন্থী’ বলে উল্লেখ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাখ্যানের ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছে মাহমুদ আব্বাসের দপ্তর। তারা বলেছে, এ সিদ্ধান্ত জাতিসংঘের ১৯৪৭ সালের ‘হেডকোয়ার্টারস অ্যাগ্রিমেন্ট’-এর লঙ্ঘন। এই চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র সাধারণত বিদেশি কূটনীতিকদের জাতিসংঘে যোগ দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার বাধ্যবাধকতায় রয়েছে। তবে ওয়াশিংটন বলছে, নিরাপত্তা, চরমপন্থা ও পররাষ্ট্রনীতির স্বার্থে ভিসা প্রত্যাখ্যান করার ক্ষমতা তাদের রয়েছে।


সূত্র: এএফপি, সিএনএন


এসজেড