ঢাকা | বঙ্গাব্দ

কৃত্রিম বৃষ্টি নামাচ্ছে সৌদি

প্রথম পর্যায়ে রিয়াদ, কাসিম, হাইল, মক্কা, আল বাহা ও আসির অঞ্চলে এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে; এবং ধাপে ধাপে পুরো রাজ্যে সম্প্রসারণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
  • অনলাইন ডেস্ক | ১৮ আগস্ট, ২০২৫
কৃত্রিম বৃষ্টি নামাচ্ছে সৌদি ফাইল ছবি

শুষ্ক ও মরুভূমিময় শহরগুলোকে পরিত্যক্ত মরূভূমির বদলে সবুজে পরিণত করতে অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে সৌদি আরব। দেশটি কৃত্রিম বৃষ্টিপাত বা ক্লাউড সিডিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে নতুন জল উৎস ও বনাঞ্চল গড়ে তুলতে তৎপর হয়ে উঠেছে।


প্রথম পর্যায়ে রিয়াদ, কাসিম, হাইল, মক্কা, আল বাহা ও আসির অঞ্চলে এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে; এবং ধাপে ধাপে পুরো রাজ্যে সম্প্রসারণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য হল বৃষ্টিপাত বৃদ্ধি, মরুকরণ রোধ, খরা মোকাবিলা এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ পুনঃস্থাপন। 


সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা সৌদি গেজেটের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।


'ক্লাউড সিডিং' প্রকল্পে ব্যবহৃত হয় পরিবেশবান্ধব উপাদান (যেমন রেইন-সিডিং ফ্লেয়ার) বিশেষায়িত বিমান ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে মেঘে ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে। এটি মেঘের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া পরিবর্তন করে কার্যকর ও দ্রুত বৃষ্টিপাত ঘটাতে সহায়তা করে। 


এ পর্যন্ত জাতীয় ক্লাউড সিডিং প্রোগ্রাম ছয়টি ধাপে সম্পন্ন হয়েছে। ৪৪৪টি ফ্লাইটে প্রায় ১,৪০০ ঘণ্টা অভিযান পরিচালনা করা হয়, যেখানে প্রায় ৮,৭৫৩টি ফ্লায়ার ব্যবহৃত হয়েছে। এর ফলে প্রাকৃতিক বৃষ্টিপাত অনুকরণ করে বিশাল পরিমাণ জলসঞ্চয় হয়েছে—প্রায় ৫ বিলিয়ন কিউবিক মিলিমিটার বৃষ্টিপাত সৃষ্টি হয়েছে 


এই কর্মসূচি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান ঘোষিত ভিশন ২০৩০-এর অংশ। গত বছর থেকেই দেশটি নিজস্ব প্রযুক্তি, উড়োজাহাজ ও জনবল দিয়ে প্রকল্পটি সম্পূর্ণ জাতীয় সক্ষমতায় বাস্তবায়ন শুরু করেছে।


ক্লাউড সিডিং কর্মসূচির নির্বাহী পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার আইমান আল বার জানান, সৌদিতে ক্লাউড সিডিং প্রথম পরীক্ষামূলক প্রয়োগ হয়েছিল ১৯৮৬ সালে। পরে ২০০৪ সালে আসির এবং ২০০৬ সালে মধ্যাঞ্চলে গবেষণা চালানো হয়। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকল্পটির সূচনা হয় ২০২২ সালে।


তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত প্রায় ৭৫২টি ফ্লাইটে ১,৮৭৯ ঘণ্টা কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। পাশাপাশি গবেষণার জন্য ৫১টি বিশেষ ফ্লাইট সম্পন্ন হয়েছে। সর্বশেষ অভিযানটি পরিচালিত হয় চলতি আগস্টে রামাহ গভর্নরেটে, যেখানে এক ঘণ্টা ২০ মিনিটের উড্ডয়নে মেঘে পানির পরিমাণ বৃদ্ধির ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।


বিশেষজ্ঞরা জানান, গ্রীষ্মকালে ক্লাউড সিডিং তুলনামূলক কঠিন। কারণ এ সময় উষ্ণ ও শুষ্ক আবহাওয়ায় ঠান্ডা মেঘের সৃষ্টি কম হয়। তাই বিকল্পভাবে ক্লাউড বেস সিডিং ও ক্লাউড টপ সিডিং কৌশল ব্যবহার করা হচ্ছে।


সূত্র: সৌদি গেজেট


thebgbd.com/NIT