ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে দ্বিতীয় দিনে অনশনে বেরোবি শিক্ষার্থীরা

রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো অনশনে বসেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
  • নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৮ আগস্ট, ২০২৫
ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে দ্বিতীয় দিনে অনশনে বেরোবি শিক্ষার্থীরা ছবি : সংগৃহীত।

রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো অনশনে বসেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। রোববার (১৭ আগস্ট) সকাল থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচি সোমবার (১৮ আগস্ট) অব্যাহত থাকে। অনশনে থাকা সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা আমরণ অনশন চালিয়ে যাবেন।


এ বিষয়ে বেরোবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকাত আলী বলেন, ‘আগামী নভেম্বরের মধ্যেই ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আমি ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক তানজিম উদ্দিন স্যারের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে নভেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন সম্পন্ন হবে।’


ড. শওকাত আলী আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের পরপরই আমি আবু সাঈদের হত্যার বিচার ও ছাত্র সংসদ ইস্যু নিয়ে উদ্যোগ নিয়েছি। শিক্ষার্থীদের ধৈর্য ধরতে বলব। আশা করি স্বায়ত্তশাসিত চার বিশ্ববিদ্যালয়ের পর বেরোবিতেই প্রথম ছাত্র সংসদ নির্বাচন হবে।’


আজ সোমবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের উত্তর গেটে বহু শিক্ষার্থী আমরণ অনশনে বসেন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ইমরান বলেন, ‘আমরা আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যেই ছাত্র সংসদ চাই। ১৭ বছর পার হলেও এখানে ছাত্র সংসদ হয়নি, এটি প্রশাসনের ব্যর্থতা।’


রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, ‘লেজুড়বৃত্তিক ছাত্ররাজনীতির কারণে ক্যাম্পাস এক সময় আতঙ্কে পরিণত হয়েছিল। আমরা চাই ছাত্র সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক চর্চা ফিরিয়ে দেওয়া হোক। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র সংসদ থাকলে কোনো সরকারই ফ্যাসিস্ট হতে পারবে না।’


ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী আশিক রহমান বলেন, ‘ছাত্র সংসদ আমাদের প্রাণের দাবি। কোটা আন্দোলনের ৯ দফার মধ্যেও এটি অন্যতম ছিল। জুলাই বিপ্লবের এক বছর পেরোলেও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ হয়নি। আমাদের দাবি, ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অবশ্যই নির্বাচন দিতে হবে।’


অনশনে থাকা শিক্ষার্থীরা হাতে প্ল্যাকার্ডে লিখেছেন, ‘জুলাইয়ে অর্জিত স্বাধীনতা, ছাত্র সংসদ পেলে পাবে পূর্ণতা’, ‘এক দফা এক দাবি, ছাত্র সংসদ কবে দিবি’, ‘সাঈদ যেদিন বুক পেতেছে, ভয় সেদিন দূর হয়েছে’, ‘ছাত্র সংসদ আমাদের অধিকার’ ইত্যাদি।


এর আগে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনকে পাঁচ দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো কার্যকর ঘোষণা না আসায় তারা আমরণ অনশনে বসতে বাধ্য হয়েছেন।


প্রতিষ্ঠার ১৭ বছরে বেরোবিতে কখনও কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়নি। ২০০৮ সালের অক্টোবরে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সরকারি দলের ছাত্র সংগঠনের দাপটে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের।


গত বছরের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ নিহত হওয়ার পর সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবিতে সিন্ডিকেট সভায় সব ধরনের লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়। এমনকি অভিযোগ প্রমাণিত হলে আজীবন বহিষ্কার ও ছাত্রত্ব বাতিলের সিদ্ধান্তও নেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।


প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালের বিশ্ববিদ্যালয় আইনে ছাত্র সংসদের কোনো ধারা রাখা হয়নি। এ কারণে নীতিমালা তৈরির পর তা সিন্ডিকেট ও অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলে পাস করে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। নীতিমালা অনুমোদন হলে ভোটার তালিকা প্রণয়ন, অর্থ সংরক্ষণসহ যাবতীয় প্রস্তুতির পর নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করা হবে।


গত বছরের ১৬ জুলাই বৈষমবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বেরোবির ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের জড়িত থাকা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৮তম সিন্ডিকেট সভায় লেজুড়বৃত্তিক ছাত্র-শিক্ষকসহ সব ধরনের রাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। লেজুড়বৃত্তিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগ তদন্ত সাপেক্ষে প্রামাণিত হলে ১১১তম সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ‘সর্বোচ্চ শাস্তি আজীবন বহিষ্কার ও ছাত্রত্ব বাতিল’ এবং প্রয়োজনে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী শাস্তি বিধানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।


বেরোবির সাধারণ শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন যাবৎ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে তাদের অধিকার আদায়, গণতান্ত্রিক চর্চা, ন্যায্য দাবি, আদায়সহ বিভিন্ন কারণে ছাত্র সংসদের দাবি জানিয়ে আসছে।


thebgbd.com/NA