বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, নির্বাচনের আগে কিন্তু দেশে অনেক গন্ডগোল হবে। ভারতে আশ্রয় নিয়ে মাফিয়া নেত্রী শেখ হাসিনা এই দেশকে লণ্ডভণ্ড করার জন্য, নির্বাচন বানচালের জন্য অনেক সহিংস ঘটনার অবতারণা করবেন। আমরা দল মত নির্বিশেষে দেশবাসী সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে এই মাফিয়াদের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডকে প্রতিহত করবো— এই হোক আমাদের অঙ্গীকার।’
শুক্রবার (৮ আগস্ট) রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
মেজর হাফিজ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করেনি। তাদের দলকে গ্লোরিফাই করার জন্য তারা লুটপাটের কাজে ব্যস্ত ছিল। স্বাধীনতার যে মূল চেতনা ছিল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, সেই গণতন্ত্রকেই তারা ছুড়ে ফেলে দিয়েছে এবং একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করেছে। এক সময় তাদেরও দৃশ্যপট থেকে অপসারণ করে সংগ্রামী জনতা।’
তিনি বলেন, ‘গত ১৫ বছরে কয়েকটি নির্বাচন হয়েছে, প্রত্যেকটিই ছিল জনগণের সঙ্গে প্রতারণা। নির্বাচনের নামে প্রহসন মঞ্চোস্থ করেছিল শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের এই দুঃশাসনের বর্ণনা সারাদিন করলেও শেষ হবে না। কত মানুষকে হত্যা করেছে, গুম করেছে; বিরোধী দলকে দমন করতে গিয়ে তারা দেশে একাটা ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। লাখ লাখ, কোটি কোটি ডলার তারা বিদেশে পাচার করেছে।’
বিএনপির এই স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, ‘আওয়ামী লীগের একজন প্রতিমন্ত্রীর ৩৬০টি বাড়ি আছে লন্ডন শহরে। দুবাইতে আছে, আমেরিকাতে আছে। অকল্পনীয়। তাদের নেত্রী অনেক ভালোভালো কথা বলে গিয়েছেন, কিন্তু লুটপাটে তিনি ইতোমধ্যে বিশ্ব রেকর্ড করে গিয়েছেন। জাতীয় সংসদের ৩৪টি আসনেই সেই পরিবারের সদস্য। সাধারণ মানুষ ভোট দিতে পারেনি। এভাবে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে অবশেষে তাদের দেশ ত্যাগ করতে হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই তরুণ ছাত্রদের। যারা শুরু করেছিল কোটা আন্দোলন দিয়ে। পরে এই কোটা আন্দোলনই এক দফার আন্দোলনে পরিণত হয়েছিল। সেই আন্দোলনে সারা জাতি অংশ নিয়েছিল। প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছে।’
মেজর হাফিজ বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম, এই দেশের একজন জ্ঞানী, নোবেল বিজয়ী, সারা দুনিয়ায় বহুল প্রচারিত ড. মুহাম্মদ ইউনূস, তিনি সরকার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন। আমরা একজন যোগ্য মানুষ পেয়েছিলাম। আমরা আশা করেছিলাম তিনি জাতিকে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অভীষ্ট লক্ষ্যে এগিয়ে নিতে পারবেন। আমরা দেখেছি প্রফেসর ইউনূস অন্তরিকভাবেই চেষ্টা করেছেন, কিন্তু উপদেষ্টা পরিষদের কিছু কিছু সদস্য গদিটা নরম ছাড়তে চান না—এ ধরনের মনোভাবের শিকার হয়েছেন। কেউ কেউ ৫ বছর, কেউ কেউ আরও বেশিদিন ক্ষমতায় থাকার খায়েস ব্যক্ত করেছেন। এটা আমরা কারও কাছ থেকে আশা করিনি।’
তিনি বলেন, ‘একটি রাজনৈতিক দল, যারা দীর্ঘদিন ধরে আমাদের মিত্র ছিল, কিন্তু নির্বাচনের আগে তাদের কাছ থেকে নানা ধরনের কথা শুনে আমরা আশ্চর্য হয়েছি। এই সরকারের দুই একজন উপদেষ্টা এবং একটি রাজনৈতিক দল একাত্তর সালের মহান মুক্তিযুদ্ধকে একটু পেছনে ঠেলে দিতে চাই।’
তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা পালানোর পর দেশবাসী আবার নতুন আশায় বুক বেঁধেছে। আমরা গণতন্ত্রকে পূর্ণভাবে বিকশিত হতে দেখতে চাই।’
thebgbd.com/NIT